Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬

১৪ বছর বয়সে পেলেট গানের ছররায় দৃষ্টিহীন কাশ্মীরের যুবতী

১৪ বছর বয়সে পেলেট গানের ছররায় দৃষ্টিশক্তি হারালেন ইনশা মুস্তাক। কাশ্মীরের এই ঘটনার প্রভাব ও প্রতিবাদ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

১৪ বছর বয়সে পেলেট গানের ছররায় দৃষ্টিহীন কাশ্মীরের যুবতী
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীনগর: গত ২০ জুলাই ককরোচদের আন্দোলনে পুলিশের চালানো পেলেট গানের ছররায় আহত হয়েছেন তিন যুবক। সেই ঘটনা ফের উসকে দিয়েছে কাশ্মীরে পেলেট গানের ভয়াবহ ইতিহাস। ২০১০ সালে প্রথমবার কাশ্মীরে পেলেট গানের ব্যবহার শুরু হয়। তবে ২০১৬ সালে তা লাগামছাড়া মাত্রা নেয়। সে বছর ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ জখম হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছ’হাজারেরও বেশি মানুষ পেলেট গানের শিকার। আহতদের মধ্যে অনেকেই পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলি এই পর্বকে ‘দৃষ্টি হারানোর মহামারি’ বলে দাবি করেছিল। এই আহতদের অন্যতম ইনশা মুস্তাক। মাত্র ১৪ বছর বয়সে পেলেট গান কেড়ে নিয়েছিল তার দৃষ্টিশক্তি।

Advertisement

কিশোরী ইনশা কোনো সরকার বিরোধী মিছিলে হাঁটেনি। ঘটনার সময় জানালার পাশে বসে অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। তার শরীরে এসে বিঁধেছিল শতাধিক পেলেট গানের ছররা। একাধিকবার অস্ত্রোপচার করেও তার দৃষ্টিশক্তি ফেরানো যায়নি। বর্তমানে ২৪ বছরের যুবতী ইনশা সাম্প্রতিক পেলেট গান চালানোর ঘটনা নিয়ে বলেছেন, ‘দিল্লিতে পেলেট গান চালানোর ঘটনায় অনেকেই সরব হয়েছেন। কাশ্মীরে যখন পেলেট গানের ছররা শিশু-কিশোরদের অন্ধ করে দিয়েছিল, তখন সবাই চুপ ছিল।’ ইনশা আরও জানান, ২০১৬ সালের ১১ জুলাইয়ের ঘটনা তিনি ভুলতে পারবেন না। নিরাপত্তার বাহিনীর ছোড়া পেলেট গানের ছররায় গুরুতর জখম হন তিনি।
ইনশা একা নন, উপত্যকাজুড়ে পেলেট গানের শিকার বহু মানুষ। সেই তালিকায় ছিল মাত্র দেড় বছরের শিশুকন্যা হিবাও। ইনশার বাবাকে সরকারি চাকরি দিয়েছিল মেহবুবা মুফতির সরকার। তবে পেলেট গানে আক্রান্ত বেশিরভাগের পরিবারের ভাগ্যেই তা জোটেনি। এমনকি রাজনীতির কারবারিদের ভয়ে জনসমক্ষে পেলেট গানে আক্রান্ত হওয়ার খবর স্বীকারও করেন না অনেকে।  ইনশা মুস্তাক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ