Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজো মণ্ডপে ঢুকতে ফুঁ দিতে হবে ব্রেথ অ্যানালাইজারে!

কলকাতা শহরে যাঁরা বাইক-গাড়ি চালান, তাঁদের অভিজ্ঞতা আছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চলন্ত গাড়ি হাত দেখিয়ে দাঁড় করায় পুলিশ।

পুজো মণ্ডপে ঢুকতে ফুঁ দিতে হবে ব্রেথ অ্যানালাইজারে!
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা শহরে যাঁরা বাইক-গাড়ি চালান, তাঁদের অভিজ্ঞতা আছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চলন্ত গাড়ি হাত দেখিয়ে দাঁড় করায় পুলিশ। একখানা যন্ত্র চালকের মুখের সামনে এগিয়ে দিয়ে বলা হয়, ‘ফুঁ দিন’। যন্ত্র বলে দেয়, চালক মদ্যপ কি না! মদ্যপ না হলে তিনি মুক্ত, আর মদ্যপ হলেই আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ। এবার পুজোয় সেই ‘উদ্যোগ’ দেখা যাবে কি মণ্ডপেও? প্রশ্ন উঠছে। কারণ, পরিকল্পনা চলছে পুরোদমে। পুরোধা—ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন। উদ্দেশ্য একটাই, প্যান্ডেলে যেন কেউ মদ্যপ অবস্থায় প্রবেশ না করে। চক্রবেড়িয়ার পুজো মণ্ডপে প্রবেশ করতে গেলে এবার ‘ব্রেথ অ্যানালাইজার’-এ ফুঁ দিতেই হবে। প্রবেশপথে থাকবে ওই যন্ত্র। মদ খেয়ে থাকলে, মণ্ডপের ভিতরে ‘নো এন্ট্রি’!

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছিলেন, অষ্টমীর দিন কোথাও মদ পাওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘শুদ্ধ পোশাক পরে পবিত্র হয়ে আগে মাকে পুষ্পাঞ্জলি দেব আমরা। ওটাই মহাষ্টমী। এই পরম্পরা ফিরিয়ে আনার কাজ আমাদের সকলকে করতে হবে।’ ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে তাঁর ভাবনাকে সমর্থন করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চক্রবেড়িয়ার পুজো দেখতে গেলে এবার কী করতে হবে দর্শনার্থীদের? পুজো কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি তিমির সরকার বলছেন, ‘পুজো মণ্ডপের সামনে আমাদের কমিটির লোকেরা, প্রশাসন ও বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী থাকবেন। কাউকে দেখে তাঁদের সন্দেহ হলে, ব্রেথ অ্যানালাইজারের ব্যবহার হবে। ফুঁ দেওয়ার পর সেখানে যদি ফুটে ওঠে, সেই ব্যক্তি মদ্যপ তবে তাঁকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ রবিবার সকালে পুলিশের উপস্থিতিতে ‘মক টেস্ট’ হয়ে গিয়েছে চক্রবেড়িয়ায়। একটি নোটিসও দেওয়া হয়েছে ক্লাবে। লেখা রয়েছে, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সম্মান জানিয়ে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ হয়েছি। পুজোর দিনগুলি, বিশেষ করে অষ্টমীতে কঠোরভাবে মানার আবেদন রাখা হচ্ছে।’ শুধু তাই নয়, তিমিরবাবুর বক্তব্য, ‘সমস্ত পুজো উদ্যোক্তা যাতে সনাতনী ধারায় দুর্গাপুজো করেন, আমি সেই আবেদন রাখব।’ অর্থাত্, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সম্মান জানিয়ে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই ‘মণ্ডপে মদ নিষিদ্ধ’ করার উদ্যোগ শুরু হল। তিনটি ব্রেথ অ্যানালাইজার পুজো কমিটির তরফেই কেনা হয়েছে। তবে তিমিরবাবু বলছেন, ‘আমাদের এখানে পুজোর সময় যা ভিড় হয়, অত কম ব্রেথ অ্যানালাইজারে হবে না। তাই আমরা আরও কেনার পরিকল্পনা করেছি। কম করে ১০-১২টা আমাদের লাগবে।’ এই বছর চক্রবেড়িয়ার থিম ‘পদ্ম’। ১০৮টি পদ্ম দিয়ে সাজানো হবে মণ্ডপ। তৃতীয়া থেকেই মণ্ডপ খুলে যাবে। সেদিন থেকেই কিন্তু ব্রেথ অ্যানালাইজারও কাজ শুরু করে দেবে। 
চক্রবেড়িয়ার এমন উদ্যোগ কি বাকিরাও মেনে চলবেন? ফোরাম ফর দুর্গাত্সবের সভাপতি তথা বেহালা নূতন দলের কর্মকর্তা সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ থাকবে। পুজো কমিটিগুলোকে তিনি আলাদা করে কোনো নির্দেশ দেননি। ফোরামের সকলেই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে, রীতি মেনে পুজো করবেন।’ হাতিবাগান সর্বজনীনের কর্মকর্তা শাশ্বত বসু বলছিলেন, ‘উদ্যোগ ভালোই। কিন্তু আমাদের এখানে যা ভিড় হয়, তার মধ্যে সকলকে আটকে ব্রেথ অ্যানালাইজার ব্যবহার করাটা সমস্যার।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ