


অভিষেক পাল, সামশেরগঞ্জ: ‘নরেন্দ্র মোদি আমেরিকার চুক্তিতে দেশ বিক্রি করার কাজ করছেন। তিনি দেশপ্রেমিক নন, দেশদ্রোহী।’ বাংলায় এসে এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হলেন রাহুল গান্ধী। মোদিকে দেশের সবচেয়ে ‘ভ্রষ্টাচারী প্রধানমন্ত্রী’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। কীভাবে মোদি আমেরিকার কথায় চলছেন সেই উদাহরণও তুলে ধরেন কংগ্রেস সাংসদ। রাহুল বলেন, ‘ভারতকে ভয়ঙ্কর ধোঁকা দিয়েছেন মোদি। আমেরিকার সঙ্গে তিনি যে সমঝোতা করেছেন, তারজন্য বিজেপির ক্ষতি হবে না। এরফলে ক্ষতি হবে দেশের শ্রমিকদের, সাধারণ জনতার। দেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন।’ বিজেপি বাংলায় ভোট চুরি করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেন তিনি।
ভোটের বাংলায় নির্বাচনি প্রচারের পারদ ক্রমশ চড়ছে। মঙ্গলবার রাজ্যে এসে রায়গঞ্জ, চাঁচল ও সামশেরগঞ্জে তিনটি সভা করেন রাহুল। প্রতিটি সভায় নরেন্দ্র মোদিকে বেলাগাম আক্রমণ করেছেন তিনি। আমেরিকার কথামতো তেল কেনা থেকে এপস্টিন ফাইল নিয়ে কড়া আক্রমণ শানান রাহুল। সামশেরগঞ্জের মঞ্চ থেকে জনতার উদ্দেশে রাহুল বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির পুরো কন্ট্রোল ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে আছে। মোদি দেশবাসীকে বলেন, তাঁর বুকের ছাতি ৫৬ ইঞ্চি। আমি সংসদে এপস্টিন, আদানি নিয়ে বলা শুরু করেছিলাম। মোদির হাওয়া বেরিয়ে গিয়েছিল। উনি লোকসভা থেকে বেরিয়ে যান। উনি চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন না।’
বিজেপিকে নিশানা করে এদিন তিনটি সভা থেকেই তোপ দেগে রাহুল বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ভোট চুরির চেষ্টা করবে। মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় চুরি করেছে। এমনি এমনি ওরা ভোট জিতে যায় না। কংগ্রেস এবং বিরোধীদের ভোট চুরি করে, ভোট কেটে ওরা নির্বাচনে জেতে।’
কীভাবে ট্রাম্পের হাতে নরেন্দ্র মোদির কন্ট্রোল আছে তা এদিন স্পষ্ট করেন রাহুল। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এপস্টিন ফাইলের কথা শুনেছেন? আমেরিকায় ৩৫ লক্ষ ফাইল বন্ধ হয়ে রয়েছে। তাতে ভারতের মন্ত্রী, বিজেপির নেতাদের নাম এবং নরেন্দ্র মোদিও ফেঁসে রয়েছেন। এপস্টিন ফাইলের চাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে। এজন্য ট্রাম্প মোদিকে যখন যা বলেন তাই করেন। কারণ, কন্ট্রোল ট্রাম্পের হাতে। রাহুল আরো একধাপ এগিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চাইলে দু’মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করে দিতে পারেন। মোদি গিয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করেন। ট্রাম্প তাঁকে নিয়ে মজা করেন।’ রাহুল আরও বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী, অম্বেদকর, জওহরলাল নেহরু, সর্দার পটেল, ইন্দিরা গান্ধীরা কোনওদিন মাথানত করেননি। আর কোথায় আজকের প্রধানমন্ত্রী? মোদির চেহারা দেখেছেন? হাওয়া বেরিয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এখন ঘুরছেন। তাঁর চেহারা দেখুন ভাল করে। উনি আমার চোখে চোখ রাখতে পারেন না।’
বিদেশ থেকে তেল কেনা নিয়ে সরব হন রাহুল। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে লজ্জার বিষয়, আমেরিকা যেখান থেকে তেল কিনতে বলে মোদি সেখান থেকেই কেনেন। ভারত ইরান, রাশিয়া, সৌদি, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনতে চাইলেও আমেরিকাকে জিজ্ঞাসা না করে তা করতে পারে না। আমাদের জ্বালানির সুরক্ষা পুরোটাই আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছেন।’