নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিয়ো মেসেজ। পাঁচ টাকার নোটে যদি ট্রাক্টরের ছবি থাকে, তাহলে তা চড়া দামে কিনে নেওয়া হবে। মেসেজের সঙ্গে দেওয়া থাকছে যোগাযোগ নম্বর। পাঁচ টাকার ওই ‘বিলুপ্তপ্রায়’ নোট বিক্রি করলে মিলবে চড়া দাম। কত বেশি দাম মিলবে? কখনও প্রলোভন দেখানো হচ্ছে পাঁচ থেকে দশ লাখের, কখনও আবার তা পৌঁছাচ্ছে ৪৭ থেকে ৪৮ লাখে! বেশ কিছুদিন ধরেই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্য ফেলেছে। মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে রাতারাতি লক্ষ লক্ষ টাকার প্রাপ্তির ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন বহু মানুষ। সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাখ্যা, সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে জালিয়াতরা নিয়মিত নিত্যনতুন কৌশল গ্রহণ করে। এই লোভনীয় অফারের পিছনেও লুকিয়ে আছে বড়োসড়ো প্রতারণাচক্র। সাইবার পুলিশ এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে সাধারণ মানুষকে। কীভাবে কাজ করছে এই প্রতারণাচক্র? ফেসবুক, ইউটিউব শর্টস, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভিডিয়ো ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে দেখানো হচ্ছে, পাঁচ টাকার পুরানো নোটে ট্রাক্টর, নৌকা বা অন্যান্য কয়েকটি ছবি আছে। দাবি করা হচ্ছে, এসব ছবিযুক্ত পাঁচ টাকার নোটগুলি ‘রেয়ার নোট’ বা ‘কালেক্টরস আইটেম’। ভিডিয়োর নীচে একটি নম্বর দেওয়া থাকছে। বলা হচ্ছে, ওই নম্বরে ফোন করলেই মিলবে বাড়িতে বসে লাখ টাকা রোজগারের সুযোগ। ফোন ধরে প্রতারকরা বলছে, নোটটা আসল কি না, তা যাচাই করার জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি, ক্যুরিয়ার চার্জ এবং জিএসটি মেটাতে হবে। তার জন্য দিতে হবে কিছু টাকা। এই খরচ বাবদ কখনও দু’হাজার, কখনও তারও বেশি টাকা চাওয়া হচ্ছে। টাকা পেলেই সেই নম্বর বন্ধ। কেউ টাকা দিতে দেরি করলে বা সন্দেহ প্রকাশ করলে আরও কয়েকবার চেষ্টার পর ব্লক করা হচ্ছে নম্বর। আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, পাঁচ টাকার কোনো নোটই তার চেয়ে চড়া দরে বিক্রি হয় না। কিছু পুরানো সিরিজের নোটে কৃষি বা উন্নয়নের ছবি ছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনো আলাদা কালেক্টর ভ্যালু নেই। পুলিশেরও বক্তব্য, গত কয়েক মাসে এই স্ক্যামে বহু মানুষ ঠকেছেন। বিশেষ করে গ্রাম এবং ছোটো শহরের বাসিন্দারা এই প্রতারণার শিকার।



