নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল থেকে কলেজ। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়। পাড়া থেকে অফিস। দাবানলের মতো ছড়িয়েছে খবর—শুক্রবার বেলা আড়াইটেয় শিয়ালদহ থেকে মিছিল। ছাত্রদের। যুবদের। ককরোচদের। মিছিল ডেকেছে সমস্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলো ও বৃহত্তর ছাত্রসমাজ। যোগ দেওয়ার কথা ছাত্র-যুব-সাধারণ মানুষদের। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সকলে প্রিয় সংগঠনের পতাকা নিয়ে আসুন। কিছুই না পছন্দ হলে দেশের পতাকা। দিল্লি, পাটনা, মুম্বই সহ দেশের বিভিন্ন শহরে পুলিশের লাঠি, ব্যারিকেড, জলকামানের সামনে তরুণ-তরুণীদের স্পর্ধার ছবি-ভিডিয়ো জেন-জিদের পকেটে পকেটে। জন্ম নিচ্ছে নয়া স্লোগান। এবার কলকাতা রাষ্ট্রকে বলবে, ‘ভুল প্রজন্মকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছ’।
অনেক বিষয়ে বিরোধ থাকলেও দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এনটিএ বাতিলের দাবিতে, দিল্লিতে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমস্ত বাম ছাত্র সংগঠন এককাট্টা হয়েছে। এসএফআই কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুর ১টা থেকে ক্লাস বয়কটের ডাক দিয়েছে। মিছিলে পোস্টার থাকবে অলচিকি হরফেও। বাজবে জেন-জি পছন্দের সাহসের গান। থাকবে স্লোগান লেখা ট্যাবলো, মনীষীদের ছবি, ভারতের পতাকা। এসএফআই, আইসা, ডিএসও সহ অন্যান্য সংগঠনের পতাকাও থাকবে। থাকবেন কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও। উদ্যোক্তারা কড়া নজর রাখছেন, কোনোভাবে যেন কেউ মিছিলের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলছিলেন, ‘দেশের সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ছাত্রদের বিরুদ্ধে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে লাঠি, পেলেট গান, ব্যারিকেড, ইলেকট্রিক শক খেতে হয়েছে দেশের ছাত্র সমাজকে। ভারতের প্রতিটা প্রান্তে প্রতিরোধের যন্তরমন্তর তৈরি হবে।’ উদ্যোক্তাদের হিসাব বলছে, হাজারে হাজারে ছাত্র-যুব এই মিছিলে যোগ দেবেন। ইতিমধ্যেই বাংলার ককরোচ জনতা পার্টি পুলিশের কাছে আর একটি মিছিল করার অনুমতি চেয়েছে। তাদের তরফে দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, ‘আমরা পুলিশের তরফে কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল করার বিষয়ে কোনো উত্তর পাইনি।’ যদিও বাম ছাত্রদের বক্তব্য, ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পার্ক সার্কাসে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও প্রতিবাদে নেমেছিলেন। প্রস্তুতি ছিল আজ, শুক্রবারের জন্য। পড়ুয়াদের আত্মহত্যা, সরকারের অনড় অবস্থান ও পড়ুয়াদের উপর পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে। প্রস্তুত তিলোত্তমা।