


সংবাদদাতা, কাঁথি: আজ, রবিবার রাধাষ্টমী। এই তিথি ঘিরে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে থাকছে দিনভর পুজোপাঠ। মন্দিরে এই প্রথম রাধাষ্টমী উৎসব ঘিরে ট্রাস্ট কমিটির তরফে এলাহি আয়োজন করা হয়েছে।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বেশ্বরী শ্রীরাধার অন্যতম পছন্দের পদ হল দই-কচুর তরকারি। সেইমতো আজ দুপুরে রাধারানিকে ৫৬ ভোগের অন্যতম স্পেশাল মেনু হিসেবে দেওয়া হবে কচু দিয়ে তৈরি হরেক পদ। দীঘার খাদালগোবরা গ্রাম থেকে সেই কচু নিয়ে আসা হয়েছে। তা দিয়ে ৩-৪টি পদ নিবেদন করা হবে শ্রীরাধাকে। ইসকনের সন্ন্যাসীরা সেই সব পদ তৈরি করবেন। এছাড়াও সেই তালিকায় থাকছে ক্ষীরের পায়েস ও বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। বিশেষ এই তিথিতে ভোর সাড়ে চারটায় হবে মঙ্গলারতি। এরপর সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হবে বৈদিক মন্ত্রপাঠের সঙ্গে যাগযজ্ঞ। বেলা ১১টায় শুরু হবে মহা অভিষেক পর্ব। এছাড়াও সকাল থেকে ভক্তিমূলক ভজন-কীর্তন চলবে। পরিবেশনের জন্য মন্দিরে থাকবেন ইসকনের ৫০ জন সন্ন্যাসী। জন্মাষ্টমীর মতোই রাধাষ্টমীতেও অভিষেকের জন্য ব্যবহৃত হবে ১০৮ টি তীর্থক্ষেত্রের জল। এছাড়াও ফুল, মধু, ঘি সহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলবে অভিষেক পর্ব। দুপুরে ভগবানকে অর্পণ করা হবে ৫৬ ভোগ। এরপর দুপুর ১টায় ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে রাধাষ্টমীর বিশেষ মহাপ্রসাদ। যেহেতু রবিবার ছুটির দিন, তাই মন্দিরে অতিরিক্ত ভিড় হতে পারে। সেকথা মাথায় রেখে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রসাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বছরে এই একদিনই রাধারানির চরণ দর্শন করতে পারেন ভক্তবৃন্দ। সেজন্য ভক্তদের সামনে রাধারানির চরণ মন্দিরের বাইরে নিয়ে আসা হয় এদিন। অভিষেক পর্বের পর রাধারানিকে নতুন পোশাকে সাজিয়ে তোলা হয়। সেই পোশাক কলকাতা থেকে তৈরি করে নিয়ে এসেছেন ইসকনের সন্ন্যাসীরা।
এদিকে রবিবারের ছুটিতে মন্দিরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সকাল থেকেই থাকবে বাড়তি পুলিসি নিরাপত্তা। মন্দির ট্রাস্টের সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, প্রথমবার রাধাষ্টমী বিশেষভাবে পালনের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই মন্দিরে বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হবে।