নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী—এই দুই পদে নরেন্দ্র মোদির মোট ২৫ বছর থাকার কৃতিত্ব প্রচার পর্ব যেন সমাপ্তই হচ্ছে না। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সেই উৎসব পালন দেশজুড়ে চলছেই। তার সঙ্গে আবার গত বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রীতিমতো প্রস্তাব গ্রহণ করে সাধুবাদ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকেও বলা হয়েছে মন্ত্রিসভায় একই মর্মে প্রস্তাব গ্রহণ করতে। তবে মোদির জন্য সবচেয়ে বড়ো উপহার এল উত্তরপ্রদেশ থেকে। আগামী বছরের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করলেন যে, সরকারের ইচ্ছা নয়ডার নতুন বিমানবন্দর যেন নরেন্দ্র মোদির নামে হয়। এর আগে আমেদাবাদে ১৯৮২ সালে তৈরি হওয়া সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্টেডিয়ামের নাম পালটে ২০২১ সালে করা হয়েছিল নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। এবার নয়ডায় জেওয়ারে সম্প্রতি চালু হওয়া এয়ারপোর্টের নাম হবে নরেন্দ্র মোদি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
ইন্দিরা গান্ধী থেকে চরণ সিং, রাজীব গান্ধী অথবা লাল বাহাদুর শাস্ত্রী— প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের নামে ভারতে বিমানবন্দরের নামকরণ হয়েছে অতীতে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আমলে তাঁর নামেই বিমানবন্দরের নামকরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, সেটা হবে নজিরবিহীন। উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রস্তাব দিলেও সেটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ করার কথা কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের। সেই সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদেরও সকলের নামে বিমানবন্দর নেই। মোরারজি দেশাইয়ের নাম সুরাত বিমানবন্দরের নামকরণ করার দাবি বহুদিনের। তা আজও করা হয়নি। দেরাদুন এয়ারপোর্টটি অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামে করতে চেয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকারও। কিন্তু সেই নাম বদল হয়নি। এখনও এই বিমানবন্দরের নাম জলি গ্রান্ট বিমানবন্দর। সেখানে জীবিত ও সরকারে থাকাকালীন মোদির নামে বিমানবন্দর হলে তা হবে আত্মপ্রচারের চূড়ান্ত পর্যায়। যোগী আদিত্যনাথ এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করলেও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো উচ্চবাচ্য করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনই ‘ভারতরত্ন’ পেয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু— এই নিয়ে বিজেপি সবথেকে বেশি সরব। প্রায়শই এনিয়ে তারা কটাক্ষ করে থাকে গান্ধী পরিবারকে। কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির ইতিহাসবোধকে সংশোধন করে জানায় যে, রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ নিজেই ভারতরত্ন দেওয়ার প্রস্তাব করেন নেহরুকে। রাষ্ট্রপতিই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন রীতি অনুযায়ী। সুতরাং নেহরু নিজেই নিজেকে ভারতরত্ন দিয়েছিলেন এই প্রচার সঠিক নয়। কার্যত সেই পথেই হাঁটছেন যোগী। এখন দেখার বিষয় তাঁর এই প্রস্তাব নরেন্দ্র মোদি গ্রহণ করেন কি না!



