নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২৯ সালের আগেই কি বিজেপির শীর্ষ স্তরে ক্ষমতার বিন্যাস পালটাবে? সাংগঠনিক রদবদলের মাধ্যমে দলের ছাত্র, যুব, মহিলা, সোশ্যাল মিডিয়া শাখায় নতুন প্রজন্মকে আরও বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সহ সভাপতি থেকে সাধারণ সম্পাদক পদেও আনা হয়েছে একঝাঁক নতুন মুখ। কিন্তু বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটি সংসদীয় বোর্ডের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাধারণত নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি এসে নিজের মতো করে সংগঠনের রদবদল করেন। কিন্তু সংসদীয় বোর্ডে বদল হয় না। কারণ, সর্বভারতীয় সভাপতি যেই হন, আদতে বিজেপির চালিকাশক্তি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। মোদির থেকেও দলের রাশ বেশি করে অমিত শাহের হাতে। অতএব সংসদীয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন ওই দু’জনই। সংগঠনের রদবদলেও তাঁদের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। এবার সাংগঠনিক রদবদলের পর শোনা যাচ্ছে বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটি সংসদীয় বোর্ডের পরিবর্তন হবে। আর সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য জল্পনা হল, সংসদীয় বোর্ডে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছেন, যোগী আদিত্যনাথ ও দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। এমনকি হিমন্ত বিশ্বশর্মার নামও চর্চায় থাকছে। যদিও সংসদীয় বোর্ডের সদস্য তাঁরাই হয়ে থাকেন, যাঁরা আদি বিজেপি। অর্থাৎ হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো কংগ্রেস অথবা অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এমন কেউ সংসদীয় বোর্ডের সদস্য সাধারণত হন না। একমাত্র ব্যতিক্রম খোদ অসমেরই নেতা সর্বানন্দ সোনেওয়াল। তিনি প্রথমে আসুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারপর অসম গণ পরিষদে যোগ দেন। সেসব ঘুরে বিজেপিতে আসেন। তিনি সংসদীয় বোর্ডের সদস্য হয়েছেন। সুতরাং হিমন্ত বিশ্বশর্মাও সংসদীয় বোর্ডের সদস্য হতেই পারেন। যোগী আদিত্যনাথ, দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে সংসদীয় বোর্ডে নেওয়া হলে, স্পষ্ট হবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের হাত। বিজেপিতে প্রকৃত প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাশালী হওয়ার প্রমাণ হল, সংসদীয় বোর্ডের সদস্য হওয়া। যোগী আদিত্যনাথকে যদি উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগেই সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা হবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আর যদি এখন কোনো রদবদল করা না হয়, তাহলে অপেক্ষা করা হবে উত্তরপ্রদেশের ভোটের জন্য। ভোটে আবার যোগী আদিত্যনাথ জয়ী হয়ে ফিরলে তাঁকে সংসদীয় বোর্ডে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ২০১২ সালে মোদি গুজরাত ভোটে পুনরায় জয়ী হওয়ার পর ২০১৩ সালে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল সংসদীয় বোর্ডে। তারপরই তাঁর প্রভাব বেড়ে যায়। সুতরাং একইভাবে যোগী আদিত্যনাথও যদি অন্তর্ভুক্ত হন সংসদীয় বোর্ডে, তাহলে তাঁর প্রভাবও বৃদ্ধি পাবে। মোদি এবং অমিত শাহের পরবর্তী যুগের নেতা ও নেতৃত্ব কাঠামো নির্মাণের প্রক্রিয়া বিজেপিতে শুরু হয়ে যাচ্ছে। যোগী আদিত্যনাথের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি ও দেবেন্দ্র ফড়নবিশের শক্তিশালী হওয়া কি ভবিষ্যতে মোদি ও অমিত শাহের প্রভাব কমার আভাস? -ফাইল চিত্র



