ওন্টারিও: পানীয়তে মেশানো হয়েছিল ড্রাগ। তাতেই মৃত্যু ঘটে বোনের। ১৫ বছর বয়সি রোক্সানার না-ফেরার দেশে পাড়ি দেওয়া অবশ্য এখনও বিশ্বাস হয় না দাদা ইয়ান ডিওমান্ডের। বছরখানেক পেরিয়েও সেই দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে তাঁকে। আইভরি কোস্টের সাড়া ফেলে দেওয়া টিনএজার বিশ্বকাপের আসরে উদযাপন করছেন বোনের স্মৃতি।
১৯ বছর বয়সি ‘দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউন’ পত্রিকায় এক মর্মস্পর্শী চিঠিতে লিখেছেন, ‘ফুটবল মাঠে আমি যা কিছু করি, সবটাই বোনের জন্য। আমার কাছে এটা আর স্রেফ খেলা নয়, বরং একটা মঞ্চ। বোন আমার মধ্যে যে ফুটবলপ্রতিভার ইঙ্গিত পেয়েছিল সেটা পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই লক্ষ্য। প্রতিটি গোলের সময় চাই আমার বোনের নাম যেন সবাই জানে। কেউ যেন ওকে না ভোলে!’
গত বছর লিপজিগের জার্সিতে বুন্দেশলিগায় অভিষেক মরশুমে ১২ গোল করে সাড়া ফেলে দেওয়া ডিওমান্ডে জানিয়েছেন যন্ত্রণার কথা। তাঁর মতে, ‘আমার সব অনুভূতি মৃত। নিজেকে আর মানুষ বলেই মনে হয় না। তোমার মৃত্যুর পর আমাকে ঘিরে থাকে শূন্যতা। তোমাকে ভোলার চেষ্টাই করি না। কারণ সেটা সম্ভবই নয়। সেই যন্ত্রণাকে বরং ব্যবহার করি আরও পরিশ্রমের জন্য। আমরা যে স্বপ্নগুলো দেখতাম সেগুলো সফল করাই এখন আমার টার্গেট।’
চলতি বিশ্বকাপে সেজন্যই নিজের সেরাটা মেলে ধরতে তিনি মরিয়া। লক্ষ লক্ষ মানুষ, পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতিনিধি হিসেবেই এই আসরে আসা। অতীতে তিনবার বিশ্বকাপ খেলেছে আইভরি কোস্ট। কিন্তু ইয়াইয়া তোরে, দিদিয়ের দ্রোগবারা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশাপূরণ হয়নি। এবার ছাপ রেখে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ডিওমান্ডে।