হিউস্টন: ‘এই মুহূর্তে দলের বাকি সবার মতো রোনাল্ডোও একজন ফুটবলার। তা আমরা এবং ও নিজেও জানে।’— কঙ্গো ম্যাচে ড্রয়ের পর এমনটাই বলেছিলেন হোয়াও নেভেস। আর এই মন্তব্য পর্তুগাল শিবিরে আগুন জ্বালানোর জন্য যথেষ্ট। তাহলে কি রোনাল্ডোর আগের মতো ধার নেই? সোশ্যাল মিডিয়ায় চটে লাল পর্তুগিজ মহাতারকার অনুরাগীরা। তাঁদের অভিযোগ— ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, নেভেসরা তাঁদের প্রিয় খেলোয়াড়কে ইচ্ছাকৃতভাবে পাস বাড়াচ্ছেন না। ম্যাচের আগে কনসেসাও আবার আগুনে ঘি ঢেলেছেন, ‘রোনাল্ডোকেই পাস বাড়াতে হবে, এমন কোনো মানে নেই। যে ফাঁকা থাকবে তাকেই পাস বাড়াব।’ পরিস্থিতি যা তাতে রবার্তো মার্তিনেজের ড্রেসিং-রুম দু’ভাগে বিভক্ত। আর এমন উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যে মঙ্গলবার হিউস্টন স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল। পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই দেশ থেকেই এসেছিলেন ইগর স্কিভিরিন। মোহন বাগান জার্সিতে জিতেছেন জাতীয় লিগও।
গ্রুপ কে’তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। মঙ্গলবার ড্র করলে চাপ আরও বাড়বে। তাই উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে যেনতেন প্রকারেণ জয় চাইছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। আর কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর ‘গো টু ম্যান’ সেই রোনাল্ডোই। সিআরসেভেন নিজেও যোগ্য নেতার পরিচয় রেখেছেন। বিতর্কে জল ঢালতে সামাজিক মাধ্যমে টিমের গ্রুপ ছবি পোস্ট করে তাঁর ক্যাপশন, ‘ফোকাস অন দ্য মিশন।’ সোমবার টিমের অনুশীলনেও তিনি মিডিয়ার দিকেই আঙুল তুলেছেন। ইশারায় বোঝালেন, সবই মিডিয়ার টিআরপি খেলা। পর্তুগাল টিম একজোটই রয়েছে। আর ক্যাপ্টেন হিসেবে রোনাল্ডোর থেকে এটাই তো কাম্য। কেরিয়ারের ষষ্ঠ তথা শেষ বিশ্বকাপ হেলায় হারাতে নারাজ তিনি। তবে শুধু মুখে বললে হবে না,জবাব দিতে হবে মাঠেও। কঙ্গোর বিরুদ্ধে গত ম্যাচটা তাঁর জন্য দুঃস্বপ্নের ছিল। সারাক্ষণ নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন তিনি। তার উপর মেজর টুর্নামেন্টের শেষ ১০টি ম্যাচে কোনো গোল নেই। তাই উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে হিউস্টনে ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, রোনাল্ডোর প্রত্যাবর্তনের মঞ্চও। মহাতারকার কোটি কোটি অনুরাগীরা সিউউউউউ.... সেলিব্রেশনের আশায় বুক বাঁধছেন। বিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে রোনাল্ডো যেন প্রমাণ করেন, ‘ফুরিয়ে যাইনি।’
উজবেকিস্তান এই প্রথমবার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে। প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ১-৩ ব্যবধানে হেরে চাপে এশিয়ার দলটি। মঙ্গলবারও শক্তির নিরিখে কয়েক যোজন পিছিয়ে তারা। তবে ভুললে চলবে না, তাদের কোচ ফাবিও কানাভারো, ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক। একটা সময় আজ্জুরিদের রক্ষণের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন তিনি। অনুমান করাই যায় পর্তুগালকে আটকাতে নিশ্চয় রক্ষণের জাল বুনে ফেলেছেন কানাভারো। তাই কিছুটা সতর্ক পর্তুগালের কোচ মার্তিনেজ। কঙ্গোর বিরুদ্ধে দলে বিভেদ নিশ্চয় তাঁর চোখ এড়ায়নি। ভুলত্রুটি শুধরে মঙ্গলবার সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরতে তৈরি পর্তুগিজ-ব্রিগেড। আক্রমণভাগে প্রধান অস্ত্র সিআরসেভেনই। ভিটিনহা, ব্রুনো, নেভেসের উপস্থিতিতে মাঝমাঠ তো সোনায় বাঁধানো। তবে রক্ষণে সমস্যা রয়েছে। দলের প্রধান ডিফেন্ডার রুবেন ডিয়াজ উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধেও অনিশ্চিত।