


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দুঃস্বপ্নের ২০২৩। সেবছর যমুনা নদীর জল উপচে প্রবেশ করে দিল্লিতে। আবারও কি সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে? ফের একবার প্লাবিত হবে দেশের রাজধানী শহর? আপাতত এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে দিল্লিবাসীর মনে। কারণ ইতিমধ্যে বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলেছে যমুনার জল। পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে যমুনার তীরবর্তী রাজধানীর যাবতীয় এলাকা প্লাবিত হওয়া সময়ের অপেক্ষা। সেইমতো বিপর্যয় মোকাবিলা টিমকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দিয়েছে দিল্লির বিজেপি সরকার। ফলে বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্ক দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে। শনিবারও টানা বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। তার জেরে দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একধাক্কায় অনেকটাই নিম্নমুখী। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৩৪ বছরের মধ্যে আগস্ট মাসে এটাই সবচেয়ে কম। সর্বকালীন ‘শীতল আগস্ট’ ছিল ১৯৭৬ সালে। ৯ তারিখ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকলেও বিজেপি সরকার অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, দু’বছর আগের মতো পরিস্থিতি এবার হবে না। কারণ, এবার আইটিও ব্যারেজের সব গেট খোলা রয়েছে। যদিও দিল্লিতে মরশুমের প্রত্যেক ভারী বৃষ্টিতেই বিজেপি সরকারের আশ্বাসবাণী কোনও কাজে আসেনি। ক্ষমতায় এসেই তারা দাবি করেছিল, বর্ষায় আর জলমগ্ন হবে না রাজধানী শহর। বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। চলতি মরশুমেই ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা। জল-যন্ত্রণায় নাকাল সাধারণ মানুষ। ফলে বন্যার আশঙ্কা নিয়ে দিল্লির বিজেপি সরকারের আশ্বাসে বিশেষ ভরসা নেই দিল্লিবাসীর। জানা যাচ্ছে, দিল্লিতে যমুনার বিপদসীমা ২০৪.৫০ মিটার। তা ২০৫.৩৩ মিটার পেরিয়ে গেলে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। শুক্রবার বেলা পর্যন্ত যমুনার জলস্তর পৌঁছেছে ২০৪.৮৮ মিটারে। কিন্তু দিল্লিতে গত কয়েকদিনে সেভাবে বৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে? বিশেষজ্ঞদের দাবি, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিই দিল্লিতে যমুনার জলস্তর বৃদ্ধির কারণ। ওই দু’রাজ্যে প্রবল বর্ষণের কারণে হাথিনীকুণ্ড ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা থেকে ছ’টার মধ্যে হাথিনীকুণ্ড ব্যারেজ থেকে ৬০ হাজার কিউসেকেরও বেশি জল ছাড়া হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে যমুনা নদীর জলস্তরের উপর। সরকারি সূত্রে খবর, জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ২০৬ মিটার পেরলেই শহরের যমুনা তীরবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরানোর কাজ শুরু
করা হবে।