Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বিন্ধ্যবাসিনীর আরাধনা

বিন্ধ্যবাসিনী পুজো। উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণেশ্বর-আড়িয়াদহ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন পুজো।

বিন্ধ্যবাসিনীর আরাধনা
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

 বিন্ধ্যবাসিনী পুজো। উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণেশ্বর-আড়িয়াদহ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন পুজো। এই অষ্টভূজা দেবীর আরাধনার বিশেষ আয়োজন শুরু হয় প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসে জামাইষষ্ঠীর দিন থেকে। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী তিথি অনুযায়ী এই পুজো হয়ে থাকে। দেবীর সঙ্গে পূজিত হন মহেশ্বর ভোলানাথ। তাঁর বাহন ষাঁড়। সঙ্গে নারায়ণ ও বাহন গরুড় পক্ষী। আর কংস। এখানে দেবী বিন্ধ্যবাসিনীকে চণ্ডীর মন্ত্রে পুজো করা হয়। এই পুজো বিন্ধ্যাচল পর্বতে হয়ে থাকে। সচরাচর এই পুজো সে অর্থে অন্যত্র খুব একটা দেখা যায় না। সেজন্য এই পুজো ঘিরে আড়িয়াদহ অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে থাকে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা। পুজো উপলক্ষ্যে এলাকায় বসে বিশাল মেলা। একটা সময় অবশ্য পুজোর এত জাঁকজমক ছিল না। এলাকার কিছু প্রবীণ মানুষ একটি বেদির উপর মাতৃ পুজোর প্রচলন করেছিলেন। তারপর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পুজোর আড়ম্বর। পুজোর দিনগুলিতে মাতৃমণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় নানা সামাজিক উৎসব ও সাংস্কৃতির অনুষ্ঠান। কে এই বিন্ধ্যবাসিনী দেবী? পুরাণে অনুসারে, দৈত্যরাজ কংস জানতে পারেন, তাঁর বোন দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তাঁকে বধ করবেন।  এজন্য দেবকীর সন্তান জন্মানোর পরই তাদের আছড়ে মেরে ফেলতেন কংস। কিন্তু কংসের কারাগারে দেবকীর অষ্টম গর্ভের পুত্র সন্তান শ্রীকৃষ্ণের জন্মগ্রহণের পর স্বামী বাসুদেব সন্তানকে নিয়ে গুপ্তপথে গোকুলে নিয়ে আসেন। সে সময় গোকুলে মা যশোদার কোলে মা চন্ডী কন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করেন। বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণকে যশোদার কোলে রেখে তার পরিবর্তে মা চন্ডী রূপী কন্যাকে নিয়ে ফিরে আসেন। কংস বোনের অষ্টম গর্ভের সন্তান জন্মগ্রহণের খবর পেয়ে কারাগারে আসেন। শিশুকন্যাকে দেবকীর কোল থেকে কেড়ে নিয়ে বিন্ধ্য পর্বতে তাকে আছাড় মারতে যান। কথিত আছে- তখনই কংসের হাত থেকে দেবী মহাশূন্যে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। এই কন্যা পরবর্তী সময়ে ‘মা বিন্ধ্যবাসিনী’ রূপে কল্পিত হন।

Advertisement

 

সম্পর্কিত সংবাদ