উজির আলি, চাঁচল: নবমীর সকালে প্রথমে পুজো হয় কুলদেবী ত্রিপুরা সুন্দরীর। জমিদার পরিবারের সদস্যরা এই পুজো দেওয়ার পরই প্রথা অনুযায়ী চলে দুর্গার আরাধনা। চাঁচল ২ ব্লকের গৌরহন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ডুমরো গ্রামের মিশ্র জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোয় এই রীতি অক্ষুণ্ণ প্রায় দু’শো বছর।
জমিদার গোলকনাথ মিশ্রের হাত ধরে সূচনা হওয়া এই পারিবারিক পুজো এখন সর্বজনীন। ডুমরোর পাশাপাশি কৃষ্ণনগর, ফুলবাড়ি, আলাদিপুর, জিতারপুর সহ পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই পুজোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। দেবীর মাহাত্ম্যে তাঁদের অগাধ বিশ্বাস।
মিশ্রবাড়ির সদস্যরা জানিয়েছেন, গোলকনাথ মিশ্রের পুত্রবধূ কুসুমকামিনী দেবীর নামে জমিদার বাড়ির এক বিশাল পুকুরের নামকরণ করা হয়েছিল। আজও সেই পুকুরে পুজোর ঘট ভরা থেকে প্রতিমা নিরঞ্জন পর্যন্ত সমস্ত আচার হয়। পরিবারের সদস্যরা সারা বছর বাইরে থাকলেও পুজোর টানে একত্রিত হন ডুমরোয়। প্রবীণ সদস্যা মীরা মিশ্র বলেন, যখন বিয়ে হয়ে এই বাড়িতে এসেছিলাম, সেই সময় থেকেই এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। রেওয়াজ একটুও বদলায়নি। দিন যত এগিয়েছে, এই পুজো গ্রামের মানুষের হয়ে উঠেছে।
সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত হয় ছাগ বলি। অষ্টমীতে সমবেত ভক্তদের ভোগ হিসেবে বিতরণ করা হয় লুচি ও মিষ্টান্ন। আর নবমীর দিন যেন মহোত্সবের রূপ নেয়। সেদিন কয়েক হাজার মানুষ একসঙ্গে জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণে পাত পেড়ে খিচুরি ভোগ খান। দশমীতে মায়ের বিদায়ের বিষাদের মধ্যেও থাকে আনন্দের ছোঁয়া। কারণ, সেদিন এলাকায় চলে অন্যতম বড় মেলা। স্থানীয়দের দাবি, জমিদার বাড়ির পুজোর অন্যতম অঙ্গ হয়ে উঠেছে মেলা। যা দশমীর দুঃখ অনেকটা ভুলিয়ে সকলকে উৎসবের আবহে বেঁধে রাখে। ফাইল চিত্র