একাদশীতে উত্তরবঙ্গে ভাণ্ডানীর আরাধনা
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: দশমীর পর একাদশীতে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় ভাণ্ডানী পুজো ও মেলা। মাথাভাঙা মেলার মাঠ প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষ্যে মেলা ও ভাওয়াইয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উদ্যোক্তারা। এবারও তিনদিনের সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠানে বাংলাদেশ, নেপাল ও অসমের লোকশিল্পীরা থাকবেন। মাথাভাঙা মহকুমার কেদারহাট গ্রামপঞ্চায়েতের শতাব্দী প্রাচীন ভাণ্ডানী পুজো ও মেলা এবছর ১৬৮ বছরে পদার্পণ করল। জোরপাটকি গ্রামপঞ্চায়েতের গোলকগঞ্জ বাজার এলাকা, প্রেমেরডাঙা গ্রামপঞ্চায়েতেও ভাণ্ডানী পুজো হয়।

Advertisement

কীভাবে চালু হয় ভাণ্ডানী পুজো? লোকসংস্কৃতির গবেষক শিক্ষক কানু বর্মন বলেন, সমতলে পুজো নিয়ে সপরিবারে হিমালয়ে ফিরে যান দেবী দুর্গা। ফেরার সময়ে ডুয়ার্সে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। এখানকার আদি বাসিন্দা রাজবংশী সম্প্রদায়ের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সাধারণ মহিলার বেশে আশ্রয় প্রার্থনা করেন দেবী। নিয়ম অনুসারে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ অচেনা কোনো মহিলা মানুষকে বাড়িতে আশ্রয় দেয় না। ফলে দেবী একদিনের জন্য রাঁধুনী হিসেবে বাড়িতে থাকতে দিতে অনুরোধ করেন। পরদিন ফেরার সময় দেবী নিজের রূপ ধারণ করেন। এই থেকে ডুয়ার্সে দশমীর পরদিন একাদশীতে ভাণ্ডানী পুজো অনুষ্ঠিত হয়। অপর লোকশ্রুতি অনুযায়ী, বনজঙ্গলে ঘেরা উত্তরের আদি বাসিন্দা রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ বাঘের হাত থেকে বাচতে বনদুর্গা হিসেবে দেবীর আরাধনা করে থাকেন। ভাণ্ডানী দেবীর পুজোয় পায়রা, পাঁঠা বলি দেওয়া প্রচলন রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাণ্ডানী বা বনদুর্গার পুজো হয়। ময়নাগুড়ির উল্লারডাবরিতে ভাণ্ডানী পুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসে। ধূপগুড়ি ব্লকের রায়পাড়া, বারোঘরিয়াতেও  মেলা বসে। মেটেলি ব্লকের দক্ষিণ ধূপঝোরা ও মাল ব্লকের ক্রান্তিতে একদিনের মেলা বসে। মেখলিগঞ্জের রানীরহাটে বসে মেলা। দেবী দুর্গার বিসর্জনের পর ভাণ্ডানীর আরাধনায় মেতে ওঠেন উত্তরের রাজবংশী সম্প্রদায়। মাথাভাঙা আঈ ভাণ্ডানী পুজো ও উৎসব কমিটির সভাপতি পদ্মশ্রী গীতা রায় বর্মন বলেন, আমাদের পুজো উৎসব এবছর ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করল। তিনদিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। • ফাইল চিত্র।