


১১ জুলাই, নিয়ামে: বিশ্বে এমন একাধিক দেশ রয়েছে যেগুলি বর্তমানে জনবিস্ফোরণের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জনসংখ্যা দিবসে জেনে নেওয়া যাক এমনই একটি দেশ, নাইজারের কাহিনী।
কার্যত জনবিস্ফোরণের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আফ্রিকার এই দেশ। নাইজারের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৭৯ লক্ষ। কিন্তু যে হারে এখানে জনসংখ্যা বাড়ছে, তাতে আগামী ২৫ বছরে, অর্থাৎ ২০৫০ সালের মধ্যে, এই দেশের জনসংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ২০৫০ সাল নাগাদ নাইজারের জনসংখ্যা হবে প্রায় ৭ কোটি।
উল্লেখ্য বিষয় হল, নাইজারে বিশ্বের প্রজননের হার সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংকের ২০২২-২০২৩ সালের তথ্য অনুসারে, এখানকার একজন মহিলা তার জীবদ্দশায় গড়ে ৬.৮টি সন্তানের জন্ম দেন। এই পরিসংখ্যান কেবল নাইজারের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকেই প্রতিফলিত করে না, বরং এমন একটি চ্যালেঞ্জকেও তুলে ধরে যা এই দেশের ভবিষ্যতকে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে, নাইজারের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী। যা ভবিষ্যতে আরও জনসংখ্যার সংকটের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাইজারে প্রজনন হার এত বেশি কেন?
নাইজারের জনসংখ্যার বেশিরভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ) গ্রামাঞ্চলে বাস করে, যেখানে কৃষিকাজ এবং পশুপালনই জীবিকার প্রধান উৎস। নাইজারের দুই-তৃতীয়াংশ সাহারা মরুভূমির এলাকা এবং শুধুমাত্র দক্ষিণ অংশ কৃষির জন্য উর্বর।
মাটির ক্ষতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখানে কৃষিকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, এই দেশে বৃহৎ পরিবারকেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেশি সন্তান থাকার অর্থ হল মাঠের কাজে সাহায্য করতে পারবে ও গায়ে-গতরে কাজ করার বেশি লোক পাওয়া। এছাড়াও, শিক্ষা এবং সচেতনতার অভাবের কারণে, আফ্রিকার এই দেশে গর্ভনিরোধক ব্যবহার খুবই কম। ২০২৩ সালে, মাত্র ৮ শতাংশ মহিলা এখানে আধুনিক গর্ভনিরোধক ব্যবহার করেছিলেন।
এছাড়াও, নাইজারে বাল্যবিবাহের প্রথা প্রচলিত। মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ১৫-১৬ বছর। অনেক ক্ষেত্রেই ১২-১৩ বছর বয়সের কিশোরীরাও মা হয়।
তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল শিশুমৃত্যু। নাইজারে প্রতি ১০০০ শিশুর মধ্যে ২৭৪ জন ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। এই শিশুমৃত্যু হারের কারণে পরিবারগুলি আরও বেশি পরিমাণে শিশু জন্মের চেষ্টা করে। যাতে কিছু শিশু বেঁচে থাকতে পারে।
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে ১২১টি দেশের মধ্যে নাইজারের অবস্থান ১১৫তম, যেখানে ২০ শতাংশ জনসংখ্যা পর্যাপ্ত খাবার পায় না। খাদ্য সংকটের এই দেশে, এক একটি নবজাতকের জন্ম খাদ্যাভাবকেই আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
একটি রিপোর্ট বলছে, নাইজারে মাত্র ৩৪ শতাংশ শিশু স্কুলে যায়, মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার কমে ২৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের অনুমান এবং গবেষণা বলছে যে যদি এখানকার মেয়েদের স্কুলে পাঠানো হয় এবং গর্ভনিরোধক ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পায়, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রজনন হার ২.৭-এ নেমে আসতে পারে।