বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: বন্ধ জেসপ কারখানায় নতুন শিল্প গড়তে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। তাই শুরু হয়েছে পরপর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। একসময় জেসপ চালাবার দায়িত্ব নিয়েছিল রুইয়া গোষ্ঠী। ওই কোম্পানি বা তার মালিকের নামে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার কোন থানায় কী কেস রয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এই আবহে দমদমের জেসপ ইউনিটে বন্দে ভারত ট্রেনের কোচ তৈরির ফের আবেদন জানানো হয়েছে। এই আরজি নিয়ে শ্রমিক সংগঠন চিঠি দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে। তাদের দাবি, পূর্বতন সরকার জেসপ অধিগ্রহণ বিল পাশ করিয়েছিল। সেটি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করা হোক। শুরু হোক নতুন কোচ তৈরির কারখানা।
ব্রিটিশ জমানায় দমদমে প্রায় ১৭৫ বিঘা এবং দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকায় ৭৫ বিঘা জায়গার উপর জেসপ কারখানা তৈরি হয়েছিল। রেলের ওয়াগন, ইএমইউ রেক প্রভৃতি তৈরি হত। কারখানা রুগ্ণ হতে শুরু করায় ২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার রুইয়া গোষ্ঠীকে এই কারখানার ৭২ শতাংশ শেয়ার দেয়। এরপর কারাখানা চালু হলেও রুইয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ ওঠে। কারখানায় অগ্নিসংযোগ, সামগ্রী বিক্রিসহ নানা অভিযোগে সরব হয়েছিল বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। পুলিশে অভিযোগ দায়েরও হয়। ২০১০ সালে জেসপের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর ২০১৩ সালে ঘোষণা করা হয় সাসপেনশন অব ওয়ার্ক। ২০১৪ সালের আগস্টে মাসছয়েকের জন্য কারখানা খুললেও ফের তালা পড়ে। ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পূর্বতন রাজ্য সরকার জেসপ অধিগ্রহণ বিল পাশ করিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে ছিল। সেটি রাষ্ট্রপতি ভবনের বিবেচনাধীন আজও।
ইতিমধ্যে পালাবদল ঘটে গিয়েছে রাজ্যে। এবার অন্তত এই বন্ধ কারখানা নতুন করে চালু হোক। দমদমের সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র দাবি। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের কাছে প্রত্যাশার চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী শ্রমিক সংগঠনগুলিকে নিয়ে বৈঠকও করেছেন। জেসপ পুনরুজ্জীবনের ব্যাপারে ১৫ জুলাই রাজ্য সরকার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করে। রুইয়া শিল্পগোষ্ঠী বা তার মালিকের নামে দমদম-সহ আশপাশের থানায় কী কী কেস রয়েছে, তার তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জেসপে বন্দে ভারত ট্রেনের কোচ তৈরির দাবি জানিয়েছেন জেসপ কোম্পানি লিমিটেড ওয়ার্কস অ্যান্ড এমপ্লিয়জ ইউনিয়নের সম্পাদক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নতুন করে জেসপের জমি দখলের চেষ্টা হচ্ছে। প্রাণসংশয় আছে জেনেও সর্বস্তরে অভিযোগ জানিয়েছি। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, পূর্বতন সরকার শিল্পের ‘শেষকৃত্য’ করে গিয়েছে। আমি এখনো ‘স্টার্টআপ’ শিল্পমন্ত্রী। সমস্ত কিছু নতুন করে তৈরি করতে হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে জেসপের জমি সংক্রান্ত জটিলতা। ওই জট কাটলেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।