Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পালাবদল হতেই সীমান্তে শুরু হতে চলেছে ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজে’র কাজ, সুরক্ষা থেকে পর্যটন বাড়ানোই লক্ষ্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের

বছর তিনেক আগে অরুণাচল প্রদেশ থেকে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। যদিও সেই প্রোগ্রাম উত্তর থেকে পূর্ব ভারতের সীমান্তবর্তী সমস্ত রাজ্যেই হওয়ার কথা ছিল।

পালাবদল হতেই সীমান্তে শুরু হতে চলেছে ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজে’র কাজ, সুরক্ষা থেকে পর্যটন বাড়ানোই লক্ষ্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: বছর তিনেক আগে অরুণাচল প্রদেশ থেকে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। যদিও সেই প্রোগ্রাম উত্তর থেকে পূর্ব ভারতের সীমান্তবর্তী সমস্ত রাজ্যেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সুসম্পর্কের অভাবে সেই প্রকল্পের কাজ পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য হল, দেশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ এবং সাধারণ মানুষের নানা পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে পালাবদর হতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই কর্মসূচি নদীয়া জেলাতেও চালু হচ্ছে। যদিও পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে কৃষ্ণগঞ্জের কাদিপুর গ্রামে অনেক আগেই এই প্রোগ্রাম চালু হয়েছিল। এবার নদীয়া জেলাতে ১৩টি ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ তৈরি করা হবে।‌ যে গ্রামগুলি হবে সীমান্ত ঘেঁষা। প্রশাসন মহলের দাবি, এর ফলে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তের গ্রামগুলোতে পর্যটনের নতুন দিশা খুলে যাবে।‌ পশ্চিমবঙ্গের ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হতেই উন্নত গ্রাম তৈরি কাজ শুরু হচ্ছে।  ইতিমধ্যেই এই বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মন্ত্রকের বৈঠক হয়েছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, আগে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে জেলাগুলিতে বিএডিপি বা বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্টের আওতায় অর্থ বরাদ্দ করা হতো। যে টাকা দিয়ে সীমান্তের উন্নয়নমূলক কাজ করা হতো। তার পরিবর্তে এই নতুন প্রোগ্রামের আওতায় গ্রামগুলোকে সাজিয়ে তোলা হবে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক দুর্গমতা, দুর্বল পরিকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের কারণে উন্নয়নের মূল স্রোতের বাইরে ছিল। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভারত সরকার ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। অরুণাচল প্রদেশ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই প্রোগ্রাম চালু করা হলেও সিকিম, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, লাদাখের প্রায় তিন হাজার গ্রামে সামগ্রিক উন্নয়ন করা হবে। 
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে নদীয়া জেলা সহ রাজ্যের কাছে একটি চিঠি আসে। যেখানে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী গ্রামে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তার জন্য নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর সহ পশ্চিমবঙ্গের ১১টি জেলার প্রত্যেকটি জেলা থেকে সীমান্তের পাঁচটি গ্রামকে বাছাই করতে বলা হয়েছিল। সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মোট ৫৫টি গ্রামকে বাছাই করাতে বলা হয়। প্রতিটি গ্রামে ২টি করে হোম স্টে বানানোর কথাও বলা হয়েছিল চিঠিতে। নদীয়া জেলার আটটি গ্রামকে চিহ্নিত করে তার তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। যদিও সেই প্রোগ্রাম বিগত দু’ বছর ধরে ফাইলবন্দি অবস্থাতেই পড়েছিল। 
প্রশাসন মহল মনে করছে, পরিবহণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে গ্রামের  সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধি, হোম স্টে তৈরি সহ বিভিন্ন কাজ করা হবে। আগামী দিনে বাইরের লোকজন এইসব গ্রামে এসে সীমান্ত ভ্রমণের স্বাদ নিতে পারেন। এর মাধ্যমে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুনিশ্চিত করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার। কারণ পর্যটন গ্রাম তৈরি হলে সেখানে নজরদারি আরও বাড়বে। প্রশাসন মহলের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সীমান্ত গ্রামগুলিকে কেবল প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে নয়, বরং দেশের কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, আবাসন ও ডিজিটাল সংযোগ উন্নত করার পাশাপাশি ই-গভর্ন্যান্স, টেলি মেডিসিন এবং অনলাইন শিক্ষার সুবিধাও বাড়ানো হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ