Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষার পরেই পুনরায় দ্বারকেশ্বর নদে চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ শুরু হবে, আশ্বাস বিজেপি বিধায়কের

বর্ষার পর দ্বারকেশ্বর নদে চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ শুরু হবে। ৩২ কোটি টাকার প্রয়োজন, দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস বিজেপি বিধায়কের। বিস্তারিত পড়ুন।

বর্ষার পরেই পুনরায় দ্বারকেশ্বর নদে চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ শুরু হবে, আশ্বাস বিজেপি বিধায়কের
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বর্ষার পরেই ওন্দায় দ্বারকেশ্বর নদের উপর চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ পুনরায় শুরু হবে। এমনটাই আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা। দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। যদিও ওই সেতু সম্পূর্ণ করতে এখনো ৩২ কোটি টাকা প্রয়োজন। ওই টাকা কীভাবে জোগাড় হবে, তা বিধায়ক খোলসা করেননি। বুধবার ওন্দা বিডিও অফিস প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে অমরনাথবাবু বলেন, ওন্দাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বর্ষার পরেই চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ শুরু হতে চলেছে। সেতুর অসমাপ্ত কাজ যাতে দ্রুত শেষ হয়, তা দেখা হবে।  

Advertisement

উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে ওই সেতুর কাজ শেষ করতে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন তৎপর হয়। এব্যাপারে জেলা প্রশাসনের তরফে রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়ে অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই ওই সেতু অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করতে না পারলে অসমাপ্ত সেতু ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা। 
বাঁকুড়ার জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, চাবড়া-গামিদ্যা সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ৩২ কোটি টাকা পেলে পূর্তদপ্তর ওই সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবে। বিষয়টি এক বছর আগে রাজ্যস্তরে জানানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো সবুজ সংকেত আসেনি।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওন্দা ব্লকের দু’টি বিস্তীর্ণ এলাকাকে জুড়তে বছর সাতেক আগে দ্বারকেশ্বর নদের উপর ওই সেতুর কাজ শুরু হয়। সেতুর একদিকে ওন্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চাবড়া এবং অন্যদিকে মাঝডিহা অঞ্চলের গামিদ্যা রয়েছে। ওই সেতু নির্মাণ হলে ওন্দা ব্লক সদরের সঙ্গে একাধিক পঞ্চায়েতের দূরত্ব কমে যাবে। নিকুঞ্জপুর, সান্তোর এলাকা থেকে ওন্দার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে যাবে। সেই কারণে সেতু নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই বাসিন্দারা সরব ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি মেনে কাজ শুরু হয়। কিন্তু, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা অর্ধেক কাজ করে চলে যায়। বরাদ্দকৃত অর্থে কাজ সম্পূর্ণ হবে না দাবি করে ওই সংস্থা মাঝপথে কার্যত রণেভঙ্গ দেয়। তারপর করোনার লকডাউন পর্ব ও পরবর্তী সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর দাম হু হু করে বেড়ে যায়। ফলে এখন বাকি কাজ করতেই বহু টাকা খরচ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণে জেলা প্রশাসনের তরফে রাজ্যের কাছে ৩২ কোটি টাকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। 
মাঝডিহা অঞ্চলের ভেদুয়া গ্রামের বাসিন্দা মৌমিতা পান বলেন, স্কুল ও টিউশনি পড়তে আমাদের এলাকার বহু ছাত্রছাত্রীকে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। আগে নৌকা চলত। বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। নদী বক্ষে মোরাম, বোল্ডার ও হিউম পাইপ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। জলস্তর বৃদ্ধি পেলে আমাদের ভোগান্তি বাড়ে। এমনকি বর্ষার মরশুমে স্কুলে যাওয়ার পর আকাশের কোণে মেঘ জমলেই বাড়ি না ফেরার আতঙ্ক ছাত্রদের গ্রাস করে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে ভালো হয়। 
গামিদ্যার বাসিন্দা জয়দেব গোস্বামী বলেন, আমি ওন্দার একটি দোকানে কাজ করি। দৈনিক দ্বারকেশ্বর পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়। একবার হড়পা বানে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।  সেতু হলে সবার সুবিধা হবে।
ওন্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক কর্মী বলেন, আমাদের এলাকায় দ্বারকেশ্বর নদ প্রায় ৫০০ মিটার চওড়া। মাঝ নদীতে ছাত্রছাত্রীরা যাওয়ার সময় হঠাৎ করে হড়পা বান চলে এলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটবে। সেতুর নির্মাণ কাজ অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে থাকার বিষয়টি একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাঁকুড়া রবীন্দ্রভবনের একটি বৈঠকে পূর্বতন পঞ্চায়েত মন্ত্রীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু, কাজের কাজ কিছু হয়নি।
 দ্বারকেশ্বর নদের উপর অসমাপ্ত চাবড়া - গামিদ্যা সেতু। -নিজস্ব চিত্র      

সম্পর্কিত সংবাদ