


সুমন মুখোপাধ্যায়, সাঁইথিয়া: মিষ্টি বাঙালির বিলাসিতা নয়। শুভ কাজের শুরুতেই হোক বা খাওয়া-দাওয়ার শেষ পাতে, বাঙালির মিষ্টি চাই। কিন্তু বাংলা নববর্ষের শুরুতেই দেশজুড়ে গ্যাসের সংকটে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের ভরসা এখন কাঠের জ্বালানি! চিরাচরিত প্রথা মেনে পয়লা বৈশাখের দিন পুরনো খাতার দেনা পাওনা মিটিয়ে শুরু হয় নতুন বছরে নতুন হালখাতা। আর সেক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়ে থাকে মিষ্টির প্যাকেট। কিন্তু চলতি বছর গোটা রাজ্যের মতো বীরভূমেও গ্যাসের সংকটে সেই প্রথা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পয়লা বৈশাখের হালখাতা, ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি মিষ্টির প্যাকেট বাঙালি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। সেই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য এ বছর প্রায় ৮০০ টাকা কুইন্টাল জ্বালানির কাঠ কিনেও মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। যদিও এবছর মিষ্টিতে বেশ কিছু কাটছাট করা হচ্ছে। কিন্তু বাঙালির শুভ কাজে শুরুতেই মিষ্টিমুখ না করালেই নয়। সেজন্যে গ্যাসের সংকটে ভরসা এখন কাঠের জ্বালানি।
সিউড়ি শহরের এক প্রসিদ্ধ মিষ্টি ব্যবসায়ী সন্দীপ দাস বলেন, আমাদের সম্পর্কের মিষ্টতার জন্য মিষ্টি বড় ভূমিকা গ্রহণ করে। সে কারণে গ্যাসের সংকটেও কাঠের জ্বালানিকে সম্বল করে বাঙালির সেই সম্পর্ক রক্ষা করতে আমরা মিষ্টি ব্যবসায়ীরা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে ব্যাপক চাহিদা থাকে মিষ্টির। সে খুচরো হোক বা অর্ডারের। সে কারণে এবছর গ্যাসের সংকটে আমরা আগেভাগেই অর্ডার নেওয়া শুরু করেছি। বিশেষ করে নববর্ষের সময় লাড্ডুর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। পাশাপাশি থাকে তেলেভাজাও। কিন্তু এবছর জ্বালানি সংকটে বেশ কিছু মিষ্টির মেনুতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যেও অভিনব মিষ্টি তৈরি হয়েছে। যেমন গোলাপ কাপ, কেশর মালাই, মনিমোহন সহ আরও অনেক ধরনের মিষ্টি।