মুম্বই ও চণ্ডীগড়: গুরুদ্বারে এক নিহঙ্গ শিখের কৃপাণ হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। হাতে চোট নিয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালেও ভরতি হতে হয়। শুক্রবার মহারাষ্ট্রের হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার দিনেই শিরোমণি অকালি দলের (এসএডি) সভাপতি সুখবীর সিং বাদল ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ভীত নন। পাঞ্জাবের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘অশান্তি সৃষ্টিকারী শক্তিগুলি আমাকে ও আমার দলকে নিশানা বানাচ্ছে। এই শক্তিগুলির লক্ষ্য পাঞ্জাব ও দেশে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সৌভ্রাতৃত্বের পরিবেশ বিঘ্নিত করা। আমাদের দল পাঞ্জাবের শান্তি বিঘ্নিত হতে দেবে না।’ হামলাকারী নিহঙ্গ শিখ যশপাল সিংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু কেন এই হামলা? পুলিশি জেরায় এই অভিযুক্ত বলেছেন, গুরুদ্বারে প্রার্থনার সময় তিনি ‘ওয়াহেগুরু’র আদেশ পান। ‘ঈশ্বরের আদেশে’ই কৃপাণ নিয়ে তাঁর এই হামলা। নেপথ্যে পাঞ্জাবের পরিস্থিতি ও মাদক ইস্যু সহ বিভিন্ন কারণের উল্লেখ করেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ জানতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।
পাঞ্জাবে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে ফের বিজেপি ও এসএডি-র কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত মিলছে। সুখবীর বাদলের দল বিজেপির সবচেয়ে পুরানো জোটসঙ্গী। ১৯৯৬ সাল থেকে দুই দল একত্রে নির্বাচনে লড়েছে। তবে ২০২০ সালে কেন্দ্রের কৃষি আইনের প্রতিবাদে তারা এনডিএ ছাড়ে। সদ্য সমাপ্ত সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এসএডি সভাপতি। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাস বিলে বাদলের দল সমর্থন জানাতে পারে বলেও ইঙ্গিত। পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোটের আগে দু’দলের সম্পর্ক যে ফের জোড়া লাগতে পারে, শুক্রবার তার আরও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। গতকাল সুখবীর বাদলের উপর হামলার পর তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন এসএডি সাংসদ তথা সুখবীরের স্ত্রী হরসিমরতও বলেছেন, ‘কঠিন সময়ে এইভাবে পাশে থাকার জন্য প্রধানমমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তাঁদের প্রতি আমাদের গোটা পরিবার কৃতজ্ঞ!’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরেও সুখবীর বাদলের উপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা চলে। ওই ঘটনার উল্লেখ করে এদিন বাদল বলেন, ‘দু’বারই শিখদের পবিত্রস্থানে হামলা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান থেকে আমাকে টলানো যাবে না।’ পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় হামলাকারী ব্যক্তি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে সন্ন্যাস গ্রহণ করে নিহঙ্গ সেবাদার হওয়ার আগে তিনি মুম্বইয়ের একটি কর্পোরেট সংস্থার আইনজীবী ছিলেন। বাইরের কারও মদতে নয়, ‘ওয়াহেগুরুর আদেশে’ই এই হামলা চালিয়েছেন।