সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: মহিলা ব্রিগেডকে সামনে রেখেই আসন্ন নির্বাচনের লড়াইয়ের ছক কষেছে শাসক শিবির। অন্যদিকে বিরোধী শিবির বামফ্রন্ট ও বিজেপি প্রার্থী তালিকায় কার্যত অনুপস্থিত মহিলা প্রতিনিধিত্ব। যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজ্যে মহিলাদের আর্থ সামাজিক সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে সামনে রেখে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কৌশলেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তাদের প্রার্থী তালিকায়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একাধিক আসনে তারা মহিলাদের প্রার্থী করেছে। কুশমণ্ডিতে রেখা রায়, তপনে চিন্তামণি বিহা এবং বালুরঘাটে অর্পিতা ঘোষকে প্রার্থী করেছে শাসক দল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং স্পষ্ট নির্বাচনী কৌশল।
অন্যদিকে, সোমবার ঘোষিত বামফ্রন্টের জেলার ছ’টি আসনের প্রার্থী তালিকায় একজন মহিলারও নাম নেই। একই ছবি বিজেপির ক্ষেত্রেও। মহিলাদের সংরক্ষণ ও আত্মনির্ভরতার প্রশ্নে জোরালো বক্তব্য থাকলেও, বাস্তবে প্রার্থী তালিকায় তার প্রতিফলন নেই বলেই অভিযোগ। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের হয়ে কুমারগঞ্জে একজন মহিলা প্রার্থী থাকলেও, বিজেপি সে বছরও কোনো মহিলা প্রার্থী দেয়নি। এবারও সেই ধারা অব্যাহত।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে বিরোধী দলগুলির নারী সমতার দাবি কি শুধুই কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ? এর পালটা হিসেবে শাসক দলের দাবি, তারা কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। তৃণমূলের দাবি, মহিলাদের সংরক্ষণ, আর্থিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাদের সরকার ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নও করেছে। জেলার মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশই মহিলা। ফলে নির্বাচনী অঙ্কে মহিলা ভোটাররা যে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, তা মানতে বাধ্য সমস্ত রাজনৈতিক দলই। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের মহিলা প্রার্থী দেওয়ার কৌশলকে অনেকেই গেম চেঞ্জার হিসেবে দেখছেন। শাসক শিবিরের অভিমত, এই মহিলা প্রার্থীরাই এবারের নির্বাচনে তুরুপের তাস হতে পারেন। রাজনৈতিক সমীকরণে এবার নারী ভোট ও নারী প্রতি-নিধিত্ব এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে যার প্রভাব পড়তে পারে চূড়ান্ত ফলাফলে। তবে জেলা বিজেপি সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী অবশ্য বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, জেলায় আমাদের পাঁচ জন পঞ্চায়েত প্রধানের মধ্যে দু’জনই মহিলা। নির্বাচন লড়াইয়ের ময়দান, এখানে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ নয়, যোগ্যতাই আসল। আমরা মহিলা প্রার্থী দিতে পারিনি, সেটা বড় কোনো ইস্যু নয়। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রশ্নে আমাদের দলে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস শুধু মহিলাদের সংরক্ষণের কথা বলে না, তাদের আত্মনির্ভরতার পথও সুগম করে। সবদিক বিবেচনা করেই আমরা জেলার ৫০ শতাংশ আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছি। আমাদের সরকার বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের পাশে থেকেছে। মহিলাদের শক্তিকেই সামনে রেখে আমরা জেলায় নির্বাচনে বাজিমাত করব। সিপিএমের জেলা সম্পাদক নন্দলাল হাজরা বলেন, জেলার ক্ষেত্রে মহিলা ও পুরুষ প্রার্থী দেখা হয় না। আমরাই আন্দোলন করি। রাজ্যে আমাদের মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।