Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলেই নারীর সমানাধিকার রক্ষা হবে: শীর্ষ আদালত

নারীর সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র রাস্তা দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করা। সেই সময় চলে এসেছে

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলেই নারীর সমানাধিকার রক্ষা হবে: শীর্ষ আদালত
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: নারীর সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র রাস্তা দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করা। সেই সময় চলে এসেছে। মঙ্গলবার এই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।

Advertisement

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলাদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে একঝাঁক আবেদন পেশ হয়েছে। সেই সূত্রেই ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন আইনের ধারা বাতিলের আর্জি জানানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং আর মহাদেবনের বেঞ্চ এদিন এই বিষয়টিকে ‘খুব ভালো মামলা’ বলে মন্তব্য করেছে। তবে একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত প্রাথমিকভাবে বলেছে, এই ইস্যুটি আইন বিভাগের বিবেচনা করে দেখা উচিত।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলেছে, একথা ঠিক যে মুসলিম সমাজের একটা বড়ো অংশকে উত্তরাধিকারের সম অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয়। আদালত যদি শরিয়ত আইন বাতিল করে দেয়, তাহলে তার ফলে আইনি শূন্যতা তৈরি হবে। কারণ মুসলিম উত্তরাধিকার নির্ধারণের জন্য আর কোনো বিধিবদ্ধ আইন নেই। আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁকে বলেন, সংস্কারের লক্ষ্যে আমাদের বাড়তি ব্যাকুলতার ফল হিতে বিপরীত হতে পারে। তড়িঘড়ি আইনটি বাতিল হলে মুসলিম মহিলারা এখন যতটুকু পাচ্ছেন, তা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হতে পারেন। শরিয়ত আইন বাতিল হলে কি অযাচিত শূন্যতা তৈরি হবে না? এর একমাত্র উত্তর হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু। বিচারপতি বাগচী প্রশান্ত ভূষণকে বলেন, বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে আপনার এই মামলা খুবই ভালো। বিষয়টি আইন বিভাগের বিবেচনার জন্য ছেড়ে দেওয়াই কি আদালতের সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না? কারণ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরি আইন বিভাগেরই এক্তিয়ারভুক্ত। তাই এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতি আনার দায়িত্ব আইন বিভাগের হাতেই ছাড়তে হবে আমাদের। আইন বিভাগের বিচক্ষণতার উপর বিষয়টি ছেড়ে দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। আদালত আগেও বহুবার আইন বিভাগকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরির পরামর্শ দিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ