নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে শুক্রবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম। যা সামলাতে নাস্তানুবাদ হতে হয় প্রশাসনকে। এদিন মেদিনীপুরে জেলাশাসকের অফিসে প্রশাসনিক বৈঠক করছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ডিএম অফিসের করিডরে প্রবল বিক্ষোভ চলাকালীন তিনি মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভরত মহিলাদের ধৈর্য ধরার বার্তা দেন। কিন্তু, অন্নপূর্ণা থেকে বঞ্চিত মহিলারা সেই কথায় কর্ণপাত করেননি। তখন মন্ত্রী বলেন, আমরা একশো দিন হল ক্ষমতায় এসেছি। একটু ধৈর্য ধরো। এত উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে কেন? একটু সময় দাও। যাঁরা পাওনি তোমরা বিধায়কদের কাছে নাম লেখাও।
পুরমন্ত্রী এই কথায় মহিলারা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। যার জেরে সিদ্ধান্ত বদলে অগ্নিমিত্রা জানান, যাঁরা অন্নপূর্ণা ভাতা পাননি তাঁরা মেদিনীপুর সদর মহকুমা শাসক অফিসে নিজেদের নাম, ফোন নম্বর এবং এনরোলমেন্ট নম্বর জমা করবেন। তাতে কিছুটা ক্ষোভ প্রশমিত হয়। তবে, অন্নপূর্ণা নিয়ে সর্বত্র যেভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ এবং অবরোধ শুরু হয়েছে তাতে পুলিশ প্রশাসনের নাজেহাল অবস্থা। শুক্রবার তমলুক পুরসভা অফিসে সামনে বিপুল সংখ্যক মহিলা বিক্ষোভ শামিল হন। অন্নপূর্ণা বঞ্চিত মহিলাদের বক্তব্য, গরিবগুর্বো পরিবারের সদস্য হওয়ার পরও অনেকেই বঞ্চিত। এর কারণ জানানো হোক। সেই বিক্ষোভ সামাল দিতে তমলুক থানার আইসি বিপ্লব পতি বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারপর সেন্ট্রাল ফোর্স নামাতে হয়। নন্দকুমার বিডিও অফিসের সামনে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা বিডিও অফিসের সামনে তমলুক-হলদিয়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। বিডিও অফিসের গেট খুলে ঢোকার সময় পুলিশের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। কাঁথি-৩ ও পটাশপুর-২ বিডিও অফিসেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
বিক্ষোভ ও অবরোধে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় শিল্পশহর হলদিয়াতেও। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সিটি সেন্টার সংলগ্ন মহকুমা শাসক অফিসে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভা এলাকার বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। এসডিও অফিস থেকে ফের কাগজ জমা দেওয়ার কথা বলতেই তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এসডিও অফিস থেকে বেরিয়ে মহিলারা প্রথমে পুরসভা যাওয়ার রাস্তা অবরোধ করেন। বেলা ১২টা নাগাদ তাঁরা সিটি সেন্টার মোড়ে গিয়ে শহরে প্রবেশের পথ ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ শুরু করেন। দেড় ঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকে। এর ফলে বন্দর সহ বিভিন্ন শিল্পসংস্থার পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল থমকে যায়। অবরোধ তুলতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মহিলা পুলিশের ধস্তাধস্তি বাধে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। অবরোধ উঠলেও ফের মহিলারা এসডিও অফিসে গিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মহিষাদলের সিআই সহ একাধিক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
সবং ব্লকের সারতা গ্রাম পঞ্চায়েতেও অন্নপূর্ণা নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ হয়। আদাশিমলা, সারতা, সাতসাই, বীরকোটা, লাড়ো, বনাই সহ আশপাশ এলাকার অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি বলে অভিযোগ। ক্ষীরপাই পুরসভার সামনে বিক্ষোভ ও অবরোধ হয়। এছাড়া, ঝাড়গ্রাম শহরে জামদা এলাকায় মহিলারা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভের জেরে পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়কে ব্যাপক যানযট তৈরি হয়। মহিলারা বিধায়ককে ঘটনাস্থলে আসতে হবে বলে দাবি তোলেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত অবরোধ ওঠে।
গোপীবল্লভপুর ব্লক অফিসেও মহিলারা এদিন বিক্ষোভ দেখান। জেলার অন্যান্য ব্লক অফিসেও মহিলারা এদিন জমায়েত করেছিলেন। মহিলাদের বিক্ষোভের মুখে অগ্নিমিত্রা পাল।-নিজস্ব চিত্র