নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: যাদবপুর ইস্যুতে উত্তপ্ত হল মেদিনীপুর কলেজ। শুক্রবার কলেজের ইংরেজি বিভাগের সামনে এসএফআইয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিল। আচমকাই এবিভিপির সঙ্গে তাদের বচসা ও হাতাহাতি বেধে যায়। এজন্য এভিবিপিকেই দায়ী করেছে এসএফআই। রড, লাঠি প্রভৃতি নিয়ে কলেজের ভিতরে ঢুকে হামলায় তাদের একাধিক ছাত্রছাত্রী জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। তাদের পালটা দাবি, এসএফআইয়ের দেশ, সরকার ও হিন্দুবিরোধী স্লোগানেই পরিস্থিতি এরকম হয়েছে। এদিনের ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা ‘বর্তমান’ যাচাই করেনি।
পশ্চিম মেদিনীপুর দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাম আমলে এই জেলার ছাত্র রাজনীতি থেকে বহু নেতা তৈরি হয়েছেন। পরবর্তীকালে তৃণমূলের ছাত্র রাজনীতিও কলেজগুলিতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কলেজের ছাত্র রাজনীতিতেও প্রভাব পড়েছে। এবার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে কলেজগুলিতে গেরুয়া ছাত্র সংগঠনের সক্রিয়তা বৃদ্ধিতে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
জেলার এক বিজেপি নেতা বলেন, আন্দোলন আর মারপিট করা এক বিষয় নয়। কলেজে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখে না। বিরোধীদের পাতা ফাঁদে পা দিলে রাজনৈতিকভাবে তার খেসারত দিতে হয়। এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক রণিত বেরা বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ঘটেছে, তা মানুষ জানে। তারই প্রতিবাদে আমরা কর্মসূচি নিয়েছিলাম। এবিভিপির ছাত্রনেতারা আমাদের উপর হামলা করেন। আমাদের পাঁচজন গুরুতর জখম হয়েছেন। ছাত্রীদের গায়েও হাত দেওয়া হয়েছে। আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামব।
এবিভিপি ছাত্রনেতা সৌম্যদীপ বেরা বলেন, আমাকে মারধর করা হয়েছে। এসএফআই দেশ, সরকার এবং হিন্দুবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। তার প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের উপর হামলা হয়। আমাকে ‘বহিরাগত’ দেগে দিয়ে মারধর করা হয়েছে! তবে কলেজের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া এদিন মেলেনি।