সংবাদদাতা, মালদহ: অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক কাজিয়া নতুন মোড় নিল শুক্রবার। ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারপার্সন সুমালা আগরওয়ালা তৃণমূল কাউন্সিলারদের সঙ্গে নিয়ে দাবি করেন, মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই। মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় আবেদনকারী মহিলাদের ১০ শতাংশের অন্নপূর্ণা যোজনা না পাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার আঙুল তুলেছিলেন পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার এবং পুরকর্মীদের একাংশের ‘রাজনৈতিক’ পক্ষপাতিত্বের দিকে। এদিন সেই অভিযোগ কার্যত নস্যাৎ করে দেয় তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
কৃষ্ণেন্দু বলেন, অজয়বাবু হয়তো প্রাপ্ত ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ওই মন্তব্য করেছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা আবেদনকারীদের একাংশ পাননি। কিন্তু এর পিছনে পুরসভার কাউন্সিলার কিংবা কর্মীদের কোনো ভূমিকা নেই। তাঁরা প্রশাসন এবং এগজিকিউটিভ অফিসারের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ীই কাজ করেছেন। একই সুরে সুমালা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুরসভার তিনজন এগজিকিউটিভ অফিসার পরপর বদল হয়েছে। তাঁদের কেউই কাউন্সিলারদের সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র গ্রহণ কিংবা পুরো ব্যবস্থা পরিচালনা নিয়ে একদিনও আলোচনা করেননি। কোন ওয়ার্ডে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে তার পুরোটাই এগজিকিউটিভ আধিকারিকই চূড়ান্ত করেছেন। সুমালার আক্ষেপ, অনর্থক আমাদের কাউন্সিলার এবং কর্মীদের উপরে দায় চাপানো হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনে তো ইংলিশবাজারের সব ওয়ার্ডেই অধিকাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি। ধরে নেওয়া যায় আবেদনকারীরা প্রায় সকলেই বিজেপি সমর্থক। তাহলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার জন্য আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে কেন? বিজেপি নেতা অজয় শুক্রবারও তাঁর বক্তব্যে অনড়। তাঁর অভিযোগ, পুরসভায় অন্নপূর্ণা যোজনার কাজে অনিয়ম হয়েছে।
পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাঁদের আবেদন বাতিল হবে, তাঁদের কারণ জানানো হবে। কিন্তু আমরা কোনো তালিকাই পাচ্ছি না। যোগ্য অযোগ্যের তালিকা না পেলে মানুষ বুঝবে কী করে। বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ইংলিশবাজার পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক সরস্বতী চক্রবর্তী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি পুর চেয়ারম্যান।-নিজস্ব চিত্র