সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুন থেকে সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাত্রার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে, এই সুবিধা নিতে গিয়ে আর্থিক ‘দণ্ড’ দিতে হচ্ছে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের। কারণ তাঁরা বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন বারবার।
অভিযোগ, দক্ষিণ দিনাজপুরে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা এনবিএসটিসির বাসের আদলে রং, স্টিকার, এমনকি লোগো ব্যবহার করে চলাচল করছে একাধিক বেসরকারি বাস। ফলে সরকারি বাস ভেবে তাতে উঠে পড়ছেন মহিলা যাত্রীরা। কন্ডাক্টর ভাড়া চাইলে দিতে চাইছেন না কেউ। তাঁরা বলছেন রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্পের কথা। কিন্তু সব শোনার পর বুঝতে পারছেন, বড় ভুল করে ফেলেছেন। তারপর দিতে বাধ্য হচ্ছেন ভাড়া। এমন ‘ফাঁদে’ পড়ে অনেক মহিলা যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এতো ঘোরতর অন্যায়।
জানা গিয়েছে, অনেক বেসরকারি বাসে এনবিএসটিসির আকাশি রং এবং বিভিন্ন স্টিকার নকল করা হচ্ছে। এমনকি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার পরিচিত হাতির লোগোও নকল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে তাড়াহুড়োর মধ্যে সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বাসের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মহিলাদের বিনামূল্যে যাত্রা পরিষেবা চালুর দ্বিতীয় দিনেই একাধিক যাত্রী এই বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। তাঁদের দাবি, সরকারি বাসের আদলে বেসরকারি বাস চালিয়ে যাত্রীদের বিভ্রান্ত করার প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কুশমণ্ডির ঊষাহরণ এলাকার বাসিন্দা গীতা বসাকের দাবি, রায়গঞ্জ থেকে সরকারি বাস ভেবে উঠেছিলাম। কুশমণ্ডিতে পৌঁছনোর পর কন্ডাক্টর ভাড়া চান। বলি, সরকারি বাসে এখন ভাড়া লাগে না। এনিয়ে তর্কও হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ভাড়া দিতে হয়েছে। সরকার দ্রুত এই বিভ্রান্তিকর রং, লেখা ও চিহ্ন ব্যবহার বন্ধ করুক। গঙ্গারামপুর বাস মালিক সংগঠনের সম্পাদক মাধব ঘোষ বলেন, টোটোর দাপটে জেলার শর্ট ও লং রুটে বাস পরিষেবা কার্যত সংকটে। ডিজেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির ফলে কঠিন পরিস্থিতি। কিছু বেসরকারি বাস নিজেদের টিকিয়ে রাখতে এমন পথ বেছে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গৌড়বঙ্গের বিভিন্ন বাস মালিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করব। দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা হবে। • সরকারি বাসের আদলে রং বেসরকারি বাসের। - নিজস্ব চিত্র।a