সোহম কর, কলকাতা: ‘ছিল বেড়াল হয়ে গেল রুমালের মতো অবস্থা তৈরি করেছে এসআইআর’-এই অভিযোগ বাংলার বহু মানুষের। যেমন যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক মহিলা জানালেন, তিনি হাতে ইনিউমারেশন ফর্ম পেয়েছেন। তারপর দেখেন তাঁর সাদা-কালো ছবিটি একটু আবছা। কিন্তু বিস্মিত হলেন, ছবিতে নাম রয়েছে এক পুরুষের। এমন কিভাবে সম্ভব হল তিনি বুঝতে পারছেন না। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় বিএলও’কে প্রশ্ন করেন, ফর্মে কি তিনি নিজের নাম লিখবেন? নাকি লিখতে হবে ওই পুরুষের নাম? উত্তর মেলে, ওই পুরুষের নামই লিখে দিন। পরে সংশোধন হবে।
ওই এলাকার বিএলও’র বক্তব্য, ২০০২ সালে মহিলার নাম ছিল ওড়িশায়। পরে তাঁর নাম দক্ষিণ ২৪ পরগনার যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু সমস্যা হল, এখন ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে ছবিটি ওই মহিলারই। কিন্তু যে নাম রয়েছে তা একজন পুরুষের। জানা গিয়েছে, নাম বদলের জন্য একাধিকবার আবেদন করার পরও তা বদলায়নি। ইনিউমারেশন ফর্ম তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা দেখে। ফলে ওই পুরুষের নামটিই থেকে গিয়েছে। আর ছবিটি রয়ে গিয়েছে মহিলার। এখন এই ডামাডোলের সময় ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে ভয়ানক সমস্যায় পড়েছেন মহিলা। বিএলও’র বক্তব্য, মহিলা তাঁর সাম্প্রতিক ছবিটি ফর্মে দিয়েছেন। কিন্তু জিজ্ঞেস করছেন, নামের জায়গায় কি তিনি তাঁর নাম লিখবেন না ফর্মে থাকা ওই পুরুষের নাম লিখবেন? জানা গিয়েছে, এই মহিলা একা নন একই ধরনের সমস্যায় বিপাকে পড়েছেন এরকম বহু ভোটার। এক্ষেত্রে নাম যেমন একেবারে পাল্টে গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে নামের বানান ভুল আছে। তাঁদেরও প্রশ্ন, ছাপার অক্ষরে লেখা ভুল নামটিই ফর্মে লিখবেন নাকি নিজের নামের সঠিক বানান লিখবেন? এইসব নিয়ে অজস্র প্রশ্ন উঠছে। আর বিভ্রান্তি হয়েই চলেছে। বিএলও বলেন, ‘আমি মহিলাকে বললাম, ফর্মে যে ভুল নাম রয়েছে সেই নামই লিখতে। তারপর এসআইআর হয়ে গেলে একটি তালিকা বের হবে। সেই তালিকা প্রকাশের পর ভুলভ্রান্তি সংশোধন করার সময় থাকবে। সে সময় তিনি নাম পরিবর্তন করে নিতে পারেন।’ মানুষের সঠিক নাম না থাকা নিয়ে হয়রানির শেষ নেই। অনেক জায়গাতেই তালিকার নাম অনুযায়ী ঠিকানায় গিয়ে বিএলও’রা দেখছেন সেই বাড়িটির অস্তিত্বই নেই। অগত্যা ভোটদানের বুথে গিয়ে ঠিকানায় না পাওয়া নামগুলির তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লিখে দেওয়া হচ্ছে, এই নামের ভোটার সংশ্লিষ্ট বিএলও’র সঙ্গে যোগাযোগ করে নিন।