


নিজস্ব প্রতিনিধি, ফলতা: এ এক আজব কাণ্ড! প্রায় এক মাস আগে যিনি ভোট দিয়েছেন, তিনিই কি না, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সকালে হয়ে গেলেন ‘মৃত’। অথচ দিব্যি হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন। বুথে ভোট দিতে গিয়ে নিজেকে ‘মৃত’ বলে জানতে পারেন তিনি। একথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছিল তাঁর। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ অবস্থায় থাকা সেই ভোটার পর্যবেক্ষকের হস্তক্ষেপে ‘জীবিত’ হয়ে উঠলেন বিকালে। তারপর ভোট দিলেন তিনি। এমনই ঘটনা ঘটেছে ফলতার ২২০ নম্বর বুথে। ফলতার জালালপুর এফপি স্কুলের এই ঘটনাকে ঘিরে চারদিকে হইচই পড়ে যায়। মধুরিমা মাইতি নামের ওই ভোটার বলেন, ২৯ এপ্রিল দিব্যি ভোট দিয়েছিলাম। হাতের আঙুলে এখনও আবছা কালির দাগ রয়েছে। পুনর্নির্বাচনের আগের দিনও ভোটার স্লিপ দেওয়া হয়েছিল। এদিন ভোটার কার্ড ও ওই স্লিপ নিয়ে বুথে ভোট দিতে যাই। তখন পোলিং অফিসার ভোটার তালিকা দেখে আমায় জানিয়ে দেন, নামের পাশে মৃত লেখা রয়েছে। ফলে তিনি ভোট দিতে পারবেন না। হতবাক মধুরিমাদেবী বাইরে বেরিয়ে এসে বিএলওর কাছে থাকা তালিকায় নিজের নাম দেখতে গিয়ে আবারও চমকে ওঠেন। কারণ সেখানে নিজের নামের পাশে ‘মৃত’ লেখা ছিল না। এমনকি, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও এমন কিছু নেই। তাহলে কীভাবে ভোট কর্মীদের হাতে থাকা ভোটার তালিকায় তাঁর নামের পাশে মৃত লেখা এল, তা নিয়েই শুরু হয় চাপানউতোর। বিষয়টি তিনি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে জানান। সুভাষচন্দ্র মারিক, অতনু ঘোষ সহ বেশ কিছু নেতা-কর্মী এই রহস্য উন্মোচনে উদ্যোগী হন। খবর যায় সেক্টর অফিসার থেকে পর্যবেক্ষক, সবার কাছেই। কোথায় ভুল, তা কেউই প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না। অবশেষে পর্যবেক্ষকের হস্তক্ষেপে কমিশনের সহায়তায় ওই মধুরিমাদেবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হন। নিজস্ব চিত্র