Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মার্কিন চিকিৎসক ‘প্রেমিকের’ গিফট পাঠানোর টোপ, নন্দীগ্রামে তরুণীর খোয়া গেল সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা

নন্দীগ্রামে এক তরুণী প্রেমিকের গিফটের লোভে ১৪ লক্ষ টাকা খুইয়ে ফেলেছেন। তদন্ত চলছে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায়। বিস্তারিত পড়ুন।

মার্কিন চিকিৎসক ‘প্রেমিকের’ গিফট পাঠানোর টোপ, নন্দীগ্রামে তরুণীর খোয়া গেল সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: স্বপ্নের দেশ আমেরিকা। সে দেশের চিকিৎসক যদি ‘প্রেমিক’ হওয়ার প্রস্তাব দেয়, তা হলে কোন তরুণীই বা সাড়া না দিয়ে থাকতে পারেন? নন্দীগ্রামের এক তরুণীও পারেননি। সোশ্যাল ম্যাট্রিমনি সাইটে আলাপ। তারপর প্রেম। নিভৃতে মোবাইলে আলাপন। একদিন প্রেমিকাকে মার্কিন হীরের আংটি, মার্কিন ডলার, সোনার চেন, হাতঘড়ি, ব্যাগ জুতো সহ আরও কতকিছু পাঠানোর ইচ্ছে প্রকাশ। এমন লোভনীয় ‘গিফট প্যাকেট’ হাতছাড়া করতে চাননি ওই তরুণী। বিমানে পাঠানো সেই গিফট প্যাকের পার্সেল নিতে গিয়ে নাকানি-চোবানি অবস্থা তাঁর। ধাপে ধাপে খোয়াতে থাকেন সঞ্চিত অর্থ। যখন বুঝলেন প্রেমিক আসলে মার্কিন চিকিৎসকের ছদ্মবেশে সাইবার প্রতারক, ততদিনে খুইয়ে ফেলেছেন ১৪ লক্ষ ৫১ হাজার ১২৪ টাকা! দিশাহারা ওই তরুণী শেষে দ্বারস্থ হন তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায়। গত ১৯ জুলাই তিনি এফআইআরও দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্ব পড়েছে পুলিশ আধিকারিক স্বরূপকুমার ঘোষের উপর।      

Advertisement

জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বাড়ি নন্দীগ্রামের সামসাবাদ। গত ২০ জানুয়ারি সোশ্যাল ম্যাট্রিমনি সাইটে এক যুবকের পরিচয় হয় তাঁর। ওই যুবক নিজেকে আমেরিকা প্রবাসী চিকিৎসক বলে জানায়। অল্প ক’দিনের মধ্যেই দু’জনের পরিচয় গড়ায় প্রেম-ভালোবাসায়। আমেরিকায় ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তরুণী। এর পর সুযোগ বুঝেই  ‘লাভ-গিফট’ পাঠানোর টোপ দেয় যুবক। আপত্তি করেননি তিনি। ব্যাস! এখান থেকেই শুরু হয় প্রতারণার আসল খেলা। ঘূণাক্ষরেও বুঝেতে পারেননি প্রেমে বিভোর ওই তরুণী। 
একদিন তরুণীকে ফোনে ওই যুবক বলে, ‘তোমার গিফট প্যাক পার্সেল করে দিয়েছি। ক’দিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে।’ বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে বিমানবন্দর থেকে পার্সেলের একটি ছবিও পাঠায় তরুণীকে। আর দেরি না করে পার্সেল নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন তিনি। এরপর ওই যুবক তাঁকে জানায় তিনি দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। তারপর একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান তরুণী। অপরপ্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে মার্কিন প্রবাসী চিকিৎসকের বাবা বলে দাবি করে।
কিছুদিন বাদে ফের অন্য একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান তরুণী।  অপরপ্রান্তে মহিলার কণ্ঠস্বর। জানানো হয়, বিমানবন্দরে আপনার গিফট এসে গিয়েছে। ৩৮ হাজার আট টাকা পাঠালে রিলিজ করা হবে। ওই মহিলা সেই পার্সেলের একটি ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। তরুণীর বিশ্বাস আরও গাঢ় হয়। সঙ্গে সঙ্গেই ওই মহিলার দেওয়া অ্যাকাউন্ট নম্বরে ৩৮ হাজার আট টাকা পাঠান। একই কায়দায় দু’দফায় আরও ছ’লক্ষ ও আট লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। না দিলে ব্ল্যাকমেলও করা হয়। শেষ পর্যন্ত দাবিমতো টাকা দিয়ে দেন ওই যুবতী। তারপরও টাকা চাওয়া চলছিলই। কিন্তু, ‘প্রেমিকের’ পাঠানো গিফট আর এসে পৌঁছয়নি। তখনই তরুণী বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার। অবশেষে গত ১৯ জুলাই তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, সচেতনতার বার্তাও দিয়েছেন স্বপনবাবু। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ