Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মৃগীরোগী ছেলেকে বাঁচাতে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে মহিলা, আটক করল আধাসেনা

ডায়মন্ডহারবার বিধানসভার ১৭৯ নম্বর চাঁদা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৃগী রোগী ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আধাসেনার হাতে আটক মা। আটক প্রতিবন্ধী ছেলেও। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভিতর ছেলে মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলেন।

মৃগীরোগী ছেলেকে বাঁচাতে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে মহিলা, আটক করল আধাসেনা
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ডায়মন্ডহারবার বিধানসভার ১৭৯ নম্বর চাঁদা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৃগী রোগী ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আধাসেনার হাতে আটক মা। আটক প্রতিবন্ধী ছেলেও। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভিতর ছেলে মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাঁর মা ঢুকে বাঁচাতে যান। ইভিএম মেশিনের কাছে চলে যান। সে কারণে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়। গ্রামবাসীরা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের খানিক দূরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পুলিশ ও কেন্দ্রবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসীদেরও বাড়ি চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মায়ের সঙ্গে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়া হানিফ শেখ মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁর মৃগী আছে। তাই তাঁর মা সোনা বিবি সঙ্গে গিয়েছিলেন। হানিফ ইভিএমে ভোট দেওয়ার সময় মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলেন। মা ছুটে গিয়ে তাঁকে বাঁচাতে যান। তখনই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দু’জনকে আটক করে। হানিফের অসুস্থতার কথা জানার পরও ছাড়েনি। নাসিরুদ্দিন মোল্লা নামে চাঁদা মোল্লাপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে দ্বিতীয়বার ভোট নেওয়া হচ্ছে। কেন নেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে গ্রামবাসীরা কেউ কিছু জানে না। ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রামের মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। সবার উপর নির্যাতন চলছে।’ অন্যান্য গ্রামবাসীরা বলেন, ‘ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে বাড়ির সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলেও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠি নিয়ে তেড়ে এসেছে। বেআইনিভাবে হানিফ আর ওর মাকে আটক করেছে।’ তাঁরা জানান, হানিফের অসুস্থতার প্রমাণপত্র হিসাবে সরকারি কার্ড আছে। সেটি দেখানো সত্বেও তাঁদের ছাড়েনি। সারাদিন থানায় বসিয়ে রেখেছে। ভোটের নামে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বুথে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর মা ও ছেলেকে ছাড়া হয়েছে। সন্ধ্যা নাগাদ দু’জনে বাড়ি ফেরেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ