সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পুরুলিয়া শহর এবং লাগোয়া এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একের পর এক মেস। কতগুলি মেস রয়েছে, কোন মেসে কতজন এবং কোন জায়গার ছেলে-মেয়েরা থাকে, সেবিষয়ে প্রায় কোনও তথ্যই নেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে। টামনা থানা এলাকায় ছেলেদের মেসে ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রেমিকাকে খুনের ঘটনার পর ছাত্রছাত্রীদের ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
পুরুলিয়া শহর এবং লাগোয়া এলাকাগুলিতে মেসগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ পেয়েছে টামনার রামকৃষ্ণপল্লিতে ছাত্রীকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া শহরের ঘনজনবসতির এলাকা থেকে শুরু করে শহর লাগোয়া এলাকায় নতুন বসতি এলাকাগুলিতে একের পর এক মেস গড়ে উঠছে। কোথাও ছেলেদের মেস, আবার কোথাও মেয়েদের। মেয়েদের মেসগুলিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়ি মালিকের নজরদারি বা নিয়মশৃঙ্খলা থাকলেও ছেলেদের মেসগুলি অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। পড়াশোনার জন্য গ্রাম থেকে শহর বা লাগোয়া এলাকায় এসে থাকলেও মেসে থেকে অনেকেই জীবনযাপনের ধাঁচ পালটে ফেলছেন। ছেলেদের মেসগুলিতে যখন খুশি যাওয়া আসার তথা অবাধ বিচরণের সুযোগ এবং অনেকক্ষেত্রে বাড়ি মালিকের অনুপস্থিতি পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাড়ির মালিকরা মাসের পর মাস মেস থেকে টাকা রোজগার করলেও কোনো কেয়ারটেকার রাখা তো দূরের কথা, সিসি ক্যামেরাও লাগানোর প্রয়োজন বোধ করছেন না। গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভার অনুমতি নেই বললেই চলে। সেইসঙ্গে আবাসিকদের তথ্য পুলিশকেও অধিকাংশ বাড়ি মালিকই জানাননি বলে অভিযোগ। টামনার রামকৃষ্ণপল্লির হত্যাকাণ্ডের পর মেস বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাড়ি মালিক মেসের ছেলেদের ভাড়া নিয়ে অন্যত্র থাকেন। আবাসিকরা যে ওই পাড়াতে কীভাবে থাকছে, কী করছে কোনো খোঁজখবরই রাখেন না। রামকৃষ্ণপল্লির যে মেসে ওই নৃশংস খুনের ঘটনাটি ঘটেছে সেখানের আবাসিক পড়ুয়াদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের বিরুদ্ধে আগেও বাড়ি মালিককে অভিযোগ জানিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু পাড়ার লোকজনের কথা কানে তোলেননি বাড়ির মালিক। ওই মেসে ১৬ জন আবাসিক থাকলেও তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে ছিল না। রেজিস্টার বা সিসিটিভিও নেই। স্থানীয় বাসিন্দা অলোক গোস্বামী বলেন, মেসগুলিতে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বাড়ি মালিক পাড়ার লোকের কথা শুনলে এতবড় ঘটনা ঘটত না। পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা অম্বরেশ কুমার বলেন, মেস এবং ভাড়া বাড়িগুলির অধিকাংশই প্রশাসনের কোনও অনুমতি না নিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা করে টাকা রোজগার করছে। কোনওরকম নজরদারির ব্যবস্থা নেই। অবিলম্বে এবিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে। তখন কিছু করার থাকবে না। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে এবিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হবে।