Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না পেলে সংসার চালানো দায় হত’, কান্নায় ভেঙে পড়লেন মন্তেশ্বরের মধুমিতা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমার সংসার বাঁচিয়ে দিয়েছে। স্বামীর ওষুধ কেনার খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগানো যাচ্ছে। কথাগুলি বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন মন্তেশ্বরের মধুমিতা দে।

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না পেলে সংসার চালানো দায় হত’, কান্নায় ভেঙে পড়লেন মন্তেশ্বরের মধুমিতা
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, মন্তেশ্বর: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমার সংসার বাঁচিয়ে দিয়েছে। স্বামীর ওষুধ কেনার খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগানো যাচ্ছে। কথাগুলি বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন মন্তেশ্বরের মধুমিতা দে। কাপড়ের খুঁটে চোখ মুছে তিনি বলেন, অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করি। বাড়িতে আর্থিক টানাটানি রয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না পেলে সংসার চালানো দায় হয়ে যেত। তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সান্ত্বনা দাস। তাঁর স্বামী দিন মজুরের কাজ করেন। সংসারের জোয়াল টানতে আগে তাঁকেও মাঠে যেতে হতো। এখন যান না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাতেই সংসারের তেল, নুন কেনার খরচ উঠে আসে। ছেলেও যুবসাথী প্রকল্পে এবার টাকা পেয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমিয়ে নিজের ইচ্ছে পূরণ করতে পারি। এটা আমাদের কাছে বড় আশীর্বাদ।

Advertisement

স্থানীয়রা বলছেন, এই কেন্দ্রে শাসক দলের টানাপোড়েন বারবারই সামনে এসেছে। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরও সেই একই ছবি দেখা গিয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও মধুমিতা, সান্ত্বনার মতো মহিলারাই তৃণমূলের ভিত মজবুত করে দিয়েছে। মহিলা ভোট ব্যাংক টানার জন্য বিজেপি সব চেষ্টাই করছে। কিন্তু এখনো তারা সাফল্য পায়নি। মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে এবারও প্রার্থী হয়েছেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। গত বছর তিনি ৫০.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেলেন। বিজেপি ৩৫.২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। বামেদের ভোট ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। এবারও তৃণমূল তাদের আগের ভোট ধরে রাখতে মরিয়া। সেক্ষেত্রে তাদের ভরসা মহিলারা। 
এদিন মন্তেশ্বর বিধানসভাকেন্দ্রে একটি সভায় তৃণমূল প্রার্থী বলেন, দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন করবে। আমরা সুশৃঙ্খল দল করি। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। বাড়ির ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ সরকার দিচ্ছে। তিনি দলের একাংশ নেতা এবং কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে। অশান্তি করা যাবে না। 
বিজেপি নেতা সাক্ষীগোপাল ঘোষ বলেন, তৃণমূলের আমলের মতো এত দুর্নীতি আগে কোনো দিন হয়নি। মানুষ সেসব বিচার করে ভোট দেবে। সিপিএম প্রার্থী অনুপম ঘোষ বলেন, ভাতা নয়, আমরা কর্মসংস্থান চাই। এলাকায় কলেজ তৈরির দাবি রয়েছে। অনেক দিন ধরেই কলেজ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, বিরোধীরা যাই বলুক না কেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তাদের সামনে বড় প্রাচীর। সেটা অতিক্রম করে তৃণমূলের ঘর দখল করা যথেষ্টই কষ্ট সাপেক্ষ। মন্তেশ্বরে দাঁড়িয়েই মধুমিতা দে, সান্ত্বনা দাসরা বলছিলেন, গরিব মানুষরা জানেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মর্ম। হাঁড়ি চড়াতে এখন আর চিন্তা করতে হয় না।
  মধুমিতা দে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ