


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: ভোট মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার প্রতারণা চক্র। সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে এখন এক ধরনের ভুয়ো মেসেজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। যেখানে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার লোভ দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি যে ধরনের বার্তাগুলি মানুষের ফোনে আসছে, সেগুলির ভাষা বেশ একই রকম— ‘অ্যাকাউন্টে ১০,৪৩০ টাকা জমা হয়েছে। আজ রাত ৯টায় তোলার উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ক্লিক করুন নিচের লিংকে’। আবার কোথাও লেখা থাকছে— ‘অ্যাকাউন্টে ১০,১৮৪ টাকা জমা হয়েছে। আজ রাত ৯টা থেকে টাকা তোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ক্লিক করুন লিংকে’। এই মেসেজগুলি লেখা হচ্ছে ইংরেজিতে। এই ধরনের মেসেজ দেখে প্রথমে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন, কারণ এখানে থাকছে টাকা জমার উল্লেখ এবং নির্দিষ্ট সময়ে টাকা তোলার নির্দেশও। সঙ্গে একটি লিংকও দেওয়া নীচে। তাতে ক্লিক করলেই নাকি টাকা ‘উইথড্র’ করা যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে। কীভাবে কাজ করছে এই প্রতারণা চক্র? সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রতারকদের একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। সাধারণ মানুষের মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ করে হঠাৎ করে টাকা পাওয়ার লোভকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা। প্রথম ধাপে ব্যবহারকারীর মোবাইলে একটি বিশ্বাসযোগ্য বার্তা পাঠানো হয়। অনেক সময় ট্রু-কলার বা অন্য অ্যাপে পরিচিত নাম দেখিয়ে সেটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা হয়। ফলে, সাধারণ মানুষ ধরে নেন এটি আসল ব্যাংক বা কোনো আর্থিক সংস্থার বার্তা। এরপর আসে সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপ। লিংকে ক্লিক। এই লিংকগুলি আসলে ভুয়ো ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। যেখানে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ব্যাংক ডিটেইলস, এটিএম পিন, ওটিপি, এমনকি কখনও কখনও মোবাইল অ্যাক্সেস করার অনুমতি পর্যন্ত চাওয়া হয়। একবার এই তথ্য চলে গেলে মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কেন মানুষ সহজে ফাঁদে পড়ছে? পুলিশের দাবি, এই ধরনের প্রতারণার সবচেয়ে বড়ো কৌশল হল ‘আর্জেন্সি’ তৈরি করা। যেমন— রাত ৯টার মধ্যে টাকা তুলতে হবে। সীমিত সময়ের অফার। তাৎক্ষণিক ক্লিক না করলে টাকা হারিয়ে যাবে। এই ধরনের বার্তা মানুষের মধ্যে তাড়াহুড়ো তৈরি করে। ফলে তাঁরা যাচাই করার সময় পান না। অনেকেই আবার কৌতূহল বা লোভের কারণে সরাসরি লিংকে ক্লিক করে ফেলেন। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও একটি বড়ো কারণ হল, এই মেসেজের ভাষা অনেকটাই অফিসিয়াল বা ব্যাংকিংয়ের মতো। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হন। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা কোনো ব্যাংক, সরকারি সংস্থা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনও এসএমএসে লিংক পাঠিয়ে টাকা তোলার কথা বলে না। তারা আরও বলছেন, এই ধরনের প্রতারণা শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এনিয়ে বারাসত সাইবার সেলের এক কর্তা বলেন, কিছুদিন সাইবার প্রতারণার ঘটনা কমেছিল। এখন ভোট মিটতেই তা আবার বেড়েছে। অজানা লিংকে ক্লিক না করাই বাঞ্ছনীয়।