নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘দিল্লিতে জেন জি’দের মোদি বিরোধী আন্দোলন দমনে মরিয়া পুলিশ। সিজেপি সমর্থক হিসাবে সন্দেহ হলেই ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি ‘ভোট চোরে’র তকমাও দিয়েছেন দিপকে। বলেছেন, ‘দেশের গণতন্ত্র চুরি করেছেন মোদি।’ সিজেপির অন্যতম সদস্য আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, ‘পদ্মপার্টির প্রশ্রয়েই দিল্লির আন্দোলন অশান্ত করার ছক কষছে দুষ্কৃতীরা। যাতে সব দায় ঠেলে দেওয়া যায় আন্দোলনকারীদের ঘাড়েই।’ রাঙ্কা এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘হামারে হাথ নেহি উঠেঙ্গে।’ যাই হয়ে যাক না কেন, আমরা কারো গায়ে হাত তুলব না। কাউকে আঘাত করব না। আন্দোলন হবে গান্ধীবাদী পথেই। কাল, শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে শুধুমাত্র ককরোচ জনতা পার্টিই নয়। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে সবক’টি বাম ছাত্র, যুবদের সংগঠন। অন্যান্য অবিজেপি দলের ছাত্র, যুব সংগঠনের কাছেও তারা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ছাত্র এবং যুবদের সংগঠন রাস্তায় নামলে স্বাভাবিকভাবেই ওইসব দলের শীর্ষ নেতৃত্বও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হবেন। এর ফলে শনিবার দিল্লির আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পুলিশের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার বাম ছাত্র সংগঠনগুলিও অভিযোগ করেছে, ১০ অক্টোবরের আন্দোলনে যাতে যোগ দিতে না পারে, সেই কারণে একাধিক নেতাকে আটক করে অজানা স্থানে নিয়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এমনকি নেতৃত্বের বাড়িতে গিয়ে অথবা ফোনেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এপ্রেক্ষিতেই ‘ককরোচ’দের হুংকার, যত বেশি আটক হবে, তত বেশি সংখ্যক মানুষ যন্তরমন্তরে যোগ দেবে। এদিন বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে যে বিপুল ভিড় চোখে পড়েছে, তাকে রীতিমতো ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ‘ককরোচ’ নেতৃত্ব ছাড়াও সেখানে হাজির ছিলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠি। জেন জি’দের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের অংশগ্রহণে কিছুটা সিঁদুরে মেঘই দেখছে মোদি সরকার। শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরেও হাজির থাকবেন ধ্রুব রাঠি। এদিন বেঙ্গালুরুতে ‘পিপলস ট্রাইবুনালে’র আয়োজন করে ‘ককরোচ’রা। এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে ভুক্তভোগী মানুষের একটি অংশকে সেখানে আনা হয়। জানা যাচ্ছে, কাল, শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরেও একইভাবে জনতার দরবার করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র চুরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দেশের মানুষের ভোটাধিকার চুরি করেছেন। ওয়ান টু থ্রি ফোর, নরেন্দ্র মোদি ভোট চোর। গণতন্ত্র ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। লড়াই চলবে।’ অভিনেতা প্রকাশ রাজের অভিযোগ, ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মোদি-শাহের অঙ্গুলিহেলনেই চলছেন। তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।’ দিল্লির আন্দোলন নিয়ে ‘ককরোচ’দের একপ্রকার হুঁশিয়ারিই দিয়েছে পুলিশ। এদিন দিল্লি পুলিশের ডিসিপি সৃষ্টি পাণ্ডে বলেন, ‘বিএনএসের ১৬৩ নং ধারা কার্যকর রয়েছে। ফলে প্রতিটি জমায়েতই বেআইনি। আইন লঙ্ঘন করলে দীর্ঘস্থায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের কথা চিন্তা করুন।’