Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬

বিক্ষোভে বেসামাল দিল্লি, তপ্ত রাজঘাট, গণতন্ত্রের হত্যাকারীরা পার পাবে না: রাহুল

রাজপথ থেকে রাজঘাট! বৃহস্পতিবারও বজায় রইল ‘জ্ঞানেশ কুমার হটাও’ আন্দোলন। মঙ্গলবার নির্বাচন সদন, বুধবার যন্তরমন্তরের পর এদিন রাজঘাটে বিজেপি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র ঐক্যবদ্ধ বিক্ষোভে দিনভর বেসামাল রাজধানী দিল্লি।

বিক্ষোভে বেসামাল দিল্লি, তপ্ত রাজঘাট, গণতন্ত্রের হত্যাকারীরা পার পাবে না: রাহুল
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: রাজপথ থেকে রাজঘাট! বৃহস্পতিবারও বজায় রইল ‘জ্ঞানেশ কুমার হটাও’ আন্দোলন। মঙ্গলবার নির্বাচন সদন, বুধবার যন্তরমন্তরের পর এদিন রাজঘাটে বিজেপি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র ঐক্যবদ্ধ বিক্ষোভে দিনভর বেসামাল রাজধানী দিল্লি। মহাত্মা গান্ধীর সমাধিক্ষেত্রে হল অবস্থান। গান্ধী স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিরোধীরা নিলেন শপথ—জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত চলবে বিক্ষোভ। রাহুল গান্ধী রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে। বলেছেন, ‘ভোট চুরির মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যার ষড়যন্ত্রকারীরা পার পাবে না। তাদের শাস্তি হবেই। কেউ বাঁচাতে পারবে না।’ একইসঙ্গে বিজেপি তথা দিল্লি পুলিশকে সমঝে দিয়ে দিয়েছেন, যত আটকানোর চেষ্টা হবে, ততই বাড়বে প্রতিবাদের শক্তি। পরবর্তী পদক্ষেপ? সরকারের উপর চাপ বাড়াতে এবার রাষ্ট্রপতি ভবন যাত্রা। টার্গেট একটাই—গণতন্ত্র রক্ষা। তার জন্য বন্ধ করতেই হবে ভোট চুরি। আজ, শুক্রবার দুপুর তিনটের সময় রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, মমতা সহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতানেত্রীরা একজোট হবেন সংসদ ভবনে। সেখান থেকে হেঁটে তাঁরা যাবেন রাষ্ট্রপতি ভবন, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে।

Advertisement

এদিনও বিরোধী বিক্ষোভের পরিকল্পনা হয়েছে এক রেস্তরাঁয়, মধ্যাহ্নভোজে বসে। বুধবার তা হয়েছিল জনপথের এক দক্ষিণ ভারতীয় রেস্তরাঁয়। আর বৃহস্পতিবার হল কনট প্লেসে ৬১ বছর ধরে চলা ভারতীয় এবং চাইনিজ খানার এক রেস্তরাঁয়। বিরোধী জোটের সাংসদ, নেতানেত্রীদের মধ্যাহ্নভোজের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, কে সি বেণুগোপাল, তেলেঙ্গানা আর হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, সুখবিন্দর সিং সুখু, মমতা তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মানেকা গুরুস্বামী, সামিরুল, সাকেত গোখলে, সমাজবাদী পার্টির মহিবুল্লা নাদভি, আরজেডি’র মনোজ ঝা, কপিল সিবাল... কে ছিলেন না সেখানে। রেস্তরাঁয় বসেই ঠিক হয় রাজঘাট অভিযানের। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা, কর্মীরা সেই খবর পেয়েই ভিড় করল রাজঘাটের বাইরে। রেস্তরাঁ চত্বরে যুব কংগ্রেস আর ছাত্র পরিষদের কর্মীরা জড়ো হয়ে শুরু করলেন স্লোগান, ‘ভোট চোর, গদ্দি ছোড়’! কিছুক্ষণের জন্য দিল্লির কেন্দ্রস্থল কনট প্লেস হল স্তব্ধ। দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ লাক্সারি বাসে চেপে বিরোধী নেতানেত্রীরা রওনা দিলেন রাজঘাট। সঙ্গে পায়ে হেঁটে সমর্থকরা। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোট চুরির কান্ডারি জ্ঞানেশ কুমার হলেও ষড়যন্ত্রের আঁতুড়ঘর আরএসএস। ষড়যন্ত্রকারী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ। আর তাই এদিন রাহুলের হাতে ধরা প্রতিবাদী পোস্টারেও লেখা ছিল, ‘ভারত দেশ কে তিন গদ্দার/মোদি, শাহ, জ্ঞানেশ কুমার।’ 
বিরোধী নেতৃত্ব পৌঁছানো মাত্রই  রাজঘাট চত্বর ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‌জওয়ানরা। বাড়তে থাকে উত্তাপ। এমনকি পুলিশের সামনেই ডাফলি বাজিয়ে স্লোগানও শোনা গেল, ‘আজাদি, আজাদি’। মুখোশ পরে দু‌ই তরুণ তরুণী রাজঘাটের বাইরে স্প্রে কালারে লিখে দিলেন, ‘ইললিগাল পিএম মাস্ট গো’, ‘ব্যান আরএসএস’। গান্ধী স্মৃতিতে সদা প্রজ্জ্বল অগ্নিশিখার সামনে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে সবুজ ঘাসে খালি পায়ে বসলেন মোদি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র জনপ্রতিনিধিরা। একজোট হয়ে প্রতিজ্ঞা করলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের শেষ দেখে ছাড়ব!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ