নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কাশ্মীর নয়। মণিপুর নয়। সীমান্ত নয়। মাওবাদী উপদ্রুত দণ্ডকারণ্যও নয়। রাজধানী দিল্লি। কিন্তু নিরাপত্তার নিরিখে যেন সবকিছুর যোগফল। উপলক্ষ্য একটাই—ককরোচ জনতা পার্টি ‘যন্তরমন্তর ২.০’ অভিযান ব্যর্থ করা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কাশ্মীর নয়। মণিপুর নয়। সীমান্ত নয়। মাওবাদী উপদ্রুত দণ্ডকারণ্যও নয়। রাজধানী দিল্লি। কিন্তু নিরাপত্তার নিরিখে যেন সবকিছুর যোগফল। উপলক্ষ্য একটাই—ককরোচ জনতা পার্টি ‘যন্তরমন্তর ২.০’ অভিযান ব্যর্থ করা।
কাল ফের যন্তরমন্তরে জমায়েত ও অবস্থানের ঘোষণা করেছে ককরোচ। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক, বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্ক হয়ে এবার ফের দিল্লির নার্ভ সেন্টার হতে চলেছে যন্তরমন্তর। ধর্মেন্দ্র প্রধান পর্বে জেন জি’কে কিছুটা কমই গুরুত্ব দিয়েছিল মোদি সরকার। তার জন্য মূল্যও দিতে হয়েছিল। ১২ বছরে প্রথমবার অরাজনৈতিক সংগঠনের দাবির কাছে মাথা নত করে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এবার ককরোচ জনতা পার্টির টার্গেট আরও বড়ো—মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। এবার কি তাহলে সরাসরি ‘যুদ্ধ’? শনিবারের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা প্রস্তুতির আভাস অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। দিল্লি পুলিশকে যথেষ্ট মনে করা হচ্ছে না। ককরোচ জনতা পার্টির ছাত্রযুব স্রোতের আশঙ্কায় মোদি সরকার এতটাই সতর্ক যে, আধাসেনা আনা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীর, ছত্তিশগড়, এমনকি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও। অন্তত প্রায় ২৫ হাজার নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। পাশাপাশি ২৫ হাজার দিল্লি পুলিশের বাহিনী তো থাকছেই।
জুলাই মাসের যন্তরমন্তর অভিযান, ব্রিকস সম্মেলন, মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র সেভ ডেমোক্রেসি কর্মসূচির জন্য ইতিমধ্যেই দিল্লিতে রয়েছে ১১১ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী। এবার নতুন করে আরও ১১০ কোম্পানি দিল্লির জন্য অনুমোদিত হয়েছে। বিএসএফ থেকে সিআরপিএফ। আইটিপিবি থেকে এসএসবি। সিআইএসএফ থেকে দিল্লি পুলিশ। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে দিল্লিকে সম্পূর্ণ দুর্গ হিসাবে পর্যবসিত করা হবে। জানা যাচ্ছে, ইন্টার স্টেট বাস টার্মিনাস, রেলওয়ে স্টেশন, এয়ারপোর্ট, হাইওয়ে—প্রতিটি পয়েন্টেই যন্তরমন্তরে যাওয়ার পথ বন্ধ করা হবে। সাধারণ যাত্রী ও অন্য কাজে বাইরে থেকে দিল্লিতে আসা মানুষ প্রমাণপত্র দেখিয়ে ছাড় পেতে পারেন। কিন্তু সবটাই নির্ভর করছে নিরাপত্তারক্ষীদের উপর। তাঁদের যদি সন্দেহ হয়, কিংবা জানতে পারেন কেউ যন্তরমন্তর যাচ্ছেন, অনুমোদন মিলবে না। সন্দেহ হলেই পুলিশ ছবি তুলে রাখবে। তাহলে এবার যন্তরমন্তর অভিযানকে আটকাতে দিল্লি পুলিশ অথবা আধাসেনা কি দমন-পীড়নের পথে হাঁটবে? ঠিক যেভাবে পেলেট গান চালানোর অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল জুলাই মাসের বিক্ষোভ সামলাতে? সেই পেলেট গান, কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জের সিদ্ধান্তই গোপনে নেওয়া হয়েছে? জানা যাচ্ছে, এবার যন্তরমন্তরে অবস্থানের যেহেতু কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই শনিবার বাহিনীর লক্ষ্য হবে ওই এলাকাকে সম্পূর্ণ কেল্লায় রূপান্তরিত করা। কেউই যাতে যন্তরমন্তরের ধারেকাছে যেতে না পারে। আর ককরোচ জনতা পার্টির হুঁশিয়ারি? ‘যেখানে আটকানো হবে, সেটাই হবে যন্তরমন্তর।’