ভারত নীতিতে কি বদল আসবে? ট্রাম্পের বিপর্যয়ের পর জল মাপছে বিদেশ মন্ত্রকও
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপর্যয়কে কীভাবে ভারতের স্বার্থে পরিণত করা যায় সেই লক্ষ্যে এখন থেকেই জোরদার তৎপরতা শুরু হয়েছে মোদি সরকারের অন্দরে। কিন্তু সরকারের সমস্যা একটাই। ট্রাম্প যতই মাঝেমধ্যে ভারতকে বিব্রত করে নানাবিধ বিবৃতি প্রদান ও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করুন। শেষ বিচারে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে মিত্রতার সম্পর্ক দীর্ঘ দিন ধরে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা সংসদের দুই কক্ষ দখল করায় মোদি সরকার কিছুটা সন্দিহান ভবিষ্যৎ নিয়ে। কারণ, ডেমোক্র্যাটদের মোদি সম্পর্কে মনোভাব বিরূপ। সুতরাং ট্রাম্প কোণঠাসা হয়েছেন বলেই ডেমোক্র্যাটরা ভারতের জন্য বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুল্ক সব কিছুর সুবিধা খুলে দেওয়ার জন্য ট্রাম্প সরকারকে বাধ্য করবে এমন মোটেও হবে না। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে বিগত ছ’মাস ধরেই শোনা যাচ্ছে। দু‌ই ঩দেশের কর্তারাই দাবি করছেন, চুড়ান্ত পর্যায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে চুক্তির প্রস্তুতি। যে কোনও মুহূর্তে হবে। আবার ভারতে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার কোন কোন শর্তে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করছে সেটা এখনও অস্পষ্ট। 

Advertisement

মঙ্গলবারই নরেন্দ্র মোদিকে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন করেছেন, কেন আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে আপনি এত তৎপর? কী শর্তে রাজি হলেন? ভারতের কৃষক সংগঠনগুলি দাবি করছে, কৃষকদের স্বার্থ সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। অতএব বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের চেষ্টা হলে আমরা দেশজুড়ে আন্দোলন করব। মোদি সরকারের উপর প্রবল চাপ। আর তার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ে পড়লেন। ট্রাম্পের ভরাডুবি স্পষ্ট হতেই ভারত সরকারের অন্দরে দুটি বিষয় নিয়ে প্রবল আগ্রহ ও সতর্কতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক তরজাও অন্তর্বর্তী নির্বাচন নিয়ে তুঙ্গে। কংগ্রেস বলেছে, আমেরিকার রাষ্ট্রপতির পরাজয় ঘটেছে। এবার এদেশেও পদ্মফুলের সমাপ্তি। পালটা বিজেপির প্রত্যাঘাত, কত প্রেসিডেন্ট আমেরিকায় আসেন আর চলে যান। পদ্মফুল এদেশে থেকেই যায়। 
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প এবার কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন? ইরান যুদ্ধের অবসানের সূত্রপাত হবে এবার? কারণ আমেরিকাবাসী ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। যদি ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প রাশ টানেন তাহলে পেট্রল, গ্যাস, সারের মূল্যবৃদ্ধি থেকে স্বস্তি পাবে ভারত। অন্য‌঩দিকে বাণিজ্য নীতি কার্যকর করা তথা ট্রাম্পের শুল্ক সন্ত্রাসে এবার ভারত কি কঠোর অবস্থান নিতে পারবে? বিগত দু’বছর ধরে সুযোগ পেলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বারংবার অস্বস্তিতে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপারেশন সিন্দুর নিয়েও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর নির্দেশেই ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতি করেছিল। ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ  করেছেন। সম্প্রতি গ্রাহামস বিল পাশ হয়েছে সংসদে। যে আইনের মাধ্যমে ট্রাম্প ইচ্ছা করলে রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় করা দেশের উপর ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক বসাতে পারবেন। এবার কি সেই কঠোর অবস্থান নরম করবেন ট্রাম্প? নীতি বদল করবেন? সেটা নিশ্চিত নয়। কারণ অন্তর্বর্তী নির্বাচনের ফলাফলে সেনেট ও কংগ্রেসের গরিষ্ঠতা ট্রাম্পের হাতছাড়া হলেও, বিদেশ নীতি, বাণিজ্য নীতি অথবা শুল্ক সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তে কোনও প্রভাব পড়ে না আমেরিকায়। এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির বিরোধিতা করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। সবমিলিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক কিছুটা খুশি। কারণ ট্রাম্পের চোখরাঙানির মনোভাব কমবে এবার।