মস্কো: ইরান যুদ্ধ নিয়ে এবার ফোনে কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের। সোমবার রাতে রুশ প্রেসিডেন্টকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প নিজেই। ঘণ্টাখানেক চলে তাঁদের ফোনালাপ। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিক ইউরি উশাকোভ বলেছেন, ‘দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে ইরান যুদ্ধ ও মস্কো-কিয়েভ-ওয়াশিংটন ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা নিয়ে কথা হয়েছে। আলোচনা ছিল খোলামেলা ও গঠনমূলক।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, দ্রুত ইরান সংঘাত নিরসনের জন্য একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন। গত সপ্তাহে বিভিন্ন আরব দেশ ও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও তুলে ধরেন রুশ প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে বিভিন্ন আরব দেশ ও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও তুলে ধরেন পুতিন।
এরইমধ্যে ফ্লোরিডায় সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি থেমে যেতে পারে। যদিও এব্যাপারে কোনও সময়সীমার উল্লেখ করেননি তিনি। তেহরানে আক্রমণকে স্বল্পমেয়াদি বলেও আখ্যা দেন তিনি। পাশাপাশি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখতেও ছাড়েননি তিনি। তাঁর এই মিশ্র বার্তা নিয়ে জল্পনা দানা বেঁধেছে। এরইমধ্যে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে আগ্রহীও হতে পারেন। তবে তা শর্তসাপেক্ষ। এব্যাপারে ট্রাম্প আরও বলেছেন, তেহরানও আলোচনা চায় বলে তিনি শুনেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও ট্রাম্প ও পুতিনের আলোচনায় উঠে আসে। কথা হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়েও।
বিগত কয়েক মাসে ১১ বার ফোনে কথা হয়েছে ট্রাম্প ও পুতিনের। তবে চলতি বছরে এই প্রথম তাঁদের মধ্যে কথা হল। উশাকোভ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়টি দুই নেতার আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে।
চলতি জ্বালানির সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারই রাশিয়া জানিয়েছিল, ভারত ও চীনের মতো সহযোগী দেশগুলিকে সাহায্যের জন্য প্রস্তুত তারা। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা তুললে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও তেল-গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাবও দেন পুতিন। টেলিভিশনে পুতিনের এই বক্তব্য সম্প্রচার হওয়ার পরেই রাতে পুতিনকে ফোন করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, বিপাকে পড়ে রুশ তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে আমেরিকা। ইরান যুদ্ধের জেরে ইতিমধ্যেই ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ব্যাপারে ছাড় দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন অনুমতির পর ভারতে রুশ তেলের সরবরাহ দ্বিগুন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।