Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির আমলে মন্ত্রিত্বের শিকে ছিড়বে কি মহকুমার বিজয়ী প্রার্থীদের কপালে

শুধু তৃণমূল সরকারের আমলেই মন্ত্রী পায়নি আরামবাগ মহকুমা। এবার কি বিজেপি সরকারের কোনো দপ্তর জুটবে মহকুমা থেকে জেতা প্রার্থীদের, এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে আরামবাগবাসীর মনে।

বিজেপির আমলে মন্ত্রিত্বের শিকে ছিড়বে কি মহকুমার বিজয়ী প্রার্থীদের কপালে
  • ৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: শুধু তৃণমূল সরকারের আমলেই মন্ত্রী পায়নি আরামবাগ মহকুমা। এবার কি বিজেপি সরকারের কোনো দপ্তর জুটবে মহকুমা থেকে জেতা প্রার্থীদের, এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে আরামবাগবাসীর মনে। শুধু প্রশ্নই নয়, অনেকে হবু রাজ্য সরকারের কাছে এই দাবিও করছেন। চর্চা চলছে, পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষের কপালে শিকে ছিঁড়তে পারে। তবে শেষমেশ বিজেপি মন্ত্রিসভায় বিমানবাবু, নাকি বাকি তিন বিধানসভার বিধায়করা জায়গা পাবেন তা নিশ্চিত হতে দুটো দিন অপেক্ষা করতেই হবে। বিমানবাবু অবশ্য এই প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।  

Advertisement

আরামবাগ মহকুমার রাজনৈতিক ইতিহাসে একাধিক ব্যক্তির মন্ত্রী হওয়ার নজির রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রফুল্লচন্দ্র সেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে অজয় মুখোপাধ্যায় আরামবাগ ও তমলুক কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তিনিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। বাম আমলে আরামবাগ থেকে জয়ী হয়ে নিমাই মাল গ্রন্থাগার মন্ত্রী হয়েছিলেন। এমনকী, বাম আমলের শেষ পাঁচ বছরেও পুরশুড়া থেকে জয়ী হয়ে অঞ্জন বেরা মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। গোঘাট বাদে আরামবাগ, খানাকুল ও পুরশুড়ায় জেতেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে কেউ মন্ত্রিত্ব পাননি। তা নিয়ে ক্ষোভও ছিল। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের মন্ত্রিত্বের আশা রাখছেন আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দারা। 
বিজেপির ইতিহাসে বিমান ঘোষ দু’ বার জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মহকুমাজুড়ে পদ্মের চাষ করেছেন। তাতেই ২০২১ সালেই বাজিমাত করে গেরুয়া শিবির। সেবারই মহকুমার চার বিধানসভায় তৃণমূলকে উচিত 'শিক্ষা' দিয়ে দখল নেয় বিজেপি। 
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গোঘাটের টেলিগ্রামের বাসিন্দা বিমানবাবু ২০১৩ সালে বিজেপির বুথ সভাপতি হন। তারপর গোঘাট মণ্ডলের যুব মোর্চার সভাপতির দায়িত্ব সামলান। দলের হয়ে ভিন জেলায় একাধিক বিধানসভায় বিস্তারকের কাজ করেন। তারপর ফের যুব মোর্চা ও দলের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০২৮ থেকে ২১ সাল পর্যন্ত জেলা সভাপতির দায়িত্ব পান। গত বিধানসভা ভোটেই পুরশুড়া থেকে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তারপর তিনি দলের রাজ্য সম্পাদকের কাজ করতে থাকেন। এরপর ফের ২০২৩ সালে আসেন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতির দায়িত্বে। বর্তমানে তিনি রাজ্য কমিটির সদস্য। বিমানবাবু এবারের ভোটেও আরামবাগ মহকুমার সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বিমান ঘোষ ৫৩ হাজার ৪৫৩ ভোটে হারিয়েছেন নিকটতম তৃণমূল প্রার্থীকে। 
রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিমানবাবুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে। তাই মন্ত্রিত্বের দৌড়ে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন। তবে খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষও দু’ বার জয়ী হয়েছেন। তাঁরও অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সাফল্য রয়েছে। এছাড়া প্রথমবার ভোটে লড়ে আরামবাগের হেমন্ত বাগ, গোঘাটের প্রশান্ত দিগার বাজিমাত করেছেন। নতুন বিধায়ক হিসেবে তাঁরা মন্ত্রিত্ব পাবেন কি না, তা নিয়েও চর্চা চলছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ