নিজস্ব প্রতিনিধি, দার্জিলিং: উত্তরবঙ্গে চরম বিপর্যয়। টানা ভারী বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড় ও সমতল এলাকার জনজীবন। বৃহস্পতিবার রাতের প্রবল বর্ষণে একাধিক নদীর জলস্তর হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে বালাসন নদীর উপর দুধিয়ায় নির্মিত নতুন হিউম পাইপ সেতুর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পাহাড় ও শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। সারারাত ধরে চলা ওই বর্ষণের ফলে পাহাড়ি নদীগুলিতে দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি পায়। বালাসন নদীতেও জলস্ফীতি দেখা দেয়, যার চাপেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। সেতুর ক্ষতির কারণে মিরিক হয়ে দার্জিলিং যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তায় যান চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে মিরিক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের শিলিগুড়িতে যাতায়াতের জন্য বিকল্প পথে ঘুম হয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সমস্যার মুখে পড়েছেন। মন্ত্রী ডাঃ অজয় কুমার পোদ্দার জানান, দপ্তর পরিস্থিতির উপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পথটি দ্রুততম সময়ে পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
২০২৫ সালে দুধিয়া লোহার সেতু ভেঙে যাওয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই অস্থায়ী কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাত ও নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে। একজন প্রশাসনিক আধিকারিক জানান, 'অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায়। তার ফলেই দুধিয়া এলাকার অস্থায়ী হিউম পাইপ সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে'। অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, বালাসন নদীর ওপর একটি স্থায়ী দুই লেনের সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ৫১ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সেই কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
পর্যটন দপ্তর থেকে চালু করা হয়েছে টোল-ফ্রি নম্বর:
1800-2121-655
0353-2513986