


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম তালিকা কি আজ শুক্রবার প্রকাশিত হতে চলেছে? বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনটি বৈঠকের পরেও বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। কারণ শনিবার ঈদ, তার আগে তালিকা প্রকাশ নিয়েই জটিলতা দেখা দিয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, এদিন পর্যন্ত রাজ্যে ২৪ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে।
এদিন সকালে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বৈঠকে ডাকেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। কমিশন সূত্রের খবর, ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নামের তালিকা প্রকাশের আগে নিরাপত্তা বিষয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের কোথাও আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারপরই বিকেলে আবার তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকেন প্রধান বিচারপতি। বৈঠকে যান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল এবং বিশেষ পর্যবেক্ষক।
কমিশন সূত্রের খবর, তালিকা প্রকাশ নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি। তিনি হাইকোর্ট থেকে ফেরার পর সিইও দপ্তরে বৈঠকে মনোজ আগওয়ালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং রাজ্য পুলিশের নব নিযুক্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েই আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। তবে শুক্রবার কি তালিকা প্রকাশ আদৌ হবে, জল্পনা রয়েই গিয়েছে তা নিয়ে। ঈদের কারণে তালিকা প্রকাশ নিয়ে প্রধান বিচারপতির দ্বিধা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে কমিশন প্রস্তুত রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। হাইকোর্ট থেকে সবুজ সংকেত মিললেই প্রথম তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে।
দু-দফায় ভোট—২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ভোটের আগে যদি সমস্ত বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি না-হয়, ঝুলে থাকা ভোটারদের কী হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সময়ের মধ্যেই সকল বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি করে ফেলতে চান বিচারকেরা। কাজের গতিও বেড়েছে। এরপরও যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁরা বিচারবিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন।
এদিকে, সিইও অফিসের তরফে এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এখনো পর্যন্ত ২৫,৩৮০টির মধ্যে ৮৯৩টি জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। ২০,৬২৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক জমা পড়েছে। এদিন পর্যন্ত ৩৯টি বোমা ও তিনটি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন রয়েছে ১০৭১টি ফ্লাইং স্কোয়াড ও ১০৫৭টি স্টাটিক সার্ভেল্যান্স টিম কাজ করছে। পাশাপাশি গোটা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন রয়েছে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।