নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: রাজনগর কোচবিহার বিমানবন্দরে আদৌ কি বিমান চলাচল করবে, তা জানা নেই খোদ এয়ারপোর্ট অথরিটিরই। উড়ানশূন্য এয়ারপোর্ট রক্ষণাবেক্ষণ করাই এখন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একমাত্র কাজ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: রাজনগর কোচবিহার বিমানবন্দরে আদৌ কি বিমান চলাচল করবে, তা জানা নেই খোদ এয়ারপোর্ট অথরিটিরই। উড়ানশূন্য এয়ারপোর্ট রক্ষণাবেক্ষণ করাই এখন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একমাত্র কাজ।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কোচবিহার-কলকাতা রুটে ৯ আসনের বিমান চলাচল নিয়ে বিস্তর দড়ি টানাটানি হয়েছে। বিমান প্রতিদিনের পরিবর্তে সপ্তাহে একদিন করে চলেছিল। গত মে মাসের ১৪ তারিখ কোচবিহার থেকে শেষ বিমানটি উড়ে যায় কলকাতার উদ্দেশ্যে। তারপর থেকে আর কোচবিহার বিমানবন্দরে আর উড়ান নামেনি। যে সংস্থা এখানে বিমান চালাত তারা নিজেদের জিনিসপত্র গুটিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে। ফলে বিমানবন্দরে এখন আর কোনো ব্যস্ততা নেই। স্তব্ধ বিমানবন্দরের পথই মাড়ায় না কোনো মানুষ।
কোচবিহার বিমানবন্দরের ডিরেক্টর শুভাশিস পাল বলেন, আমরা বিমানবন্দর এখন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করি। শেষ বিমান উড়ে গিয়েছিল ১৪ মে। যে সংস্থা এখনে বিমান চালাত ১৫ তারিখ তারাও সবকিছু গুটিয়ে নিয়ে চলে যায়। নতুন কোনো নির্দেশিকা আসেনি। আমরা কোথাও আবেদন-নিবেদন করিনি। কোনো মন্ত্রীর সঙ্গেও আমাদের কোনো যোগাযোগও হয়নি।
বছর তিনেক আগে কোচবিহারে দীর্ঘ টালবাহানার পর বিমান চলাচল শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই বিমান নিয়মিত চলাচল করায় যাত্রী সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই সব সিটই ভরতি থাকত। যেসময় বিমানের উপর মানুষের আস্থা বাড়ছিল, ঠিক সেই সময় বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর এতেই বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিত্য যাতায়াতকারীরা। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সময়েই প্রশ্ন উঠেছিল, কবে ফের কোচবিহারে বিমান চলাচল শুরু হবে? কিন্তু তার উত্তর মেলেনি। ভোটের ঠিক আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিমানবন্দর পরিদর্শন করে বেশকিছু নথি নিয়ে যান। বলেছিলেন, কোচবিহার-কলকাতার মধ্যে এই বিমান যাতে চলাচল করে সেদিকে নজর দেওয়া হবে। এরপর রাজ্যে পালা বদল হয়েছে। কিন্তু এখনও কোচবিহার বিমানবন্দরে ফের বিমান চলাচল নিয়ে কোনো অগ্রগতি নজরে আসেনি।
• ফাইল চিত্র।