নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ ক্ষতি প্রায় ১২ শতাংশ। এই লোকসান কমানোর জন্য শীঘ্রই বিদ্যুৎ মাশুল সংশোধনের ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রের। এর জন্য একটি ‘রোড ম্যাপ’ তৈরি করা হবে। আগামী দু’মাসের মধ্যে বিদ্যুতের দাম সংক্রান্ত রেগুলেটরি কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত হবে নয়া মাশুল। শনিবার রাজ্যে এসে এই কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। তিনি যেভাবে লোকসান কমানোর স্বার্থে নয়া হারে বিদ্যুৎ মাশুল নির্ধারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে মাস দু’য়েক পর রাজ্যবাসীর বিদ্যুৎ বাবদ খরচ বাড়তে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মাশুল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রসঙ্গত, বিগত সরকারের আমলে বিরোধীরা বারবার দাবি করত, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলায় বিদ্যুতের দাম বেশি। সেই জায়গায় রাজ্যে পালাবদলের কয়েক মাসের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়লে তা বিস্তর বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
খট্টর আরও জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার চালু হতে চলেছে প্রিপেড স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা। অর্থাৎ, মোবাইল ফোনের মতো প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করে করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন রাজ্যের বাসিন্দারা। এদিন রাজারহাটের একটি পাঁচতারা হোটেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, জুলাই মাস থেকেই ঘরে ঘরে স্মার্ট মিটার দেওয়া শুরু হয়ে যাবে রাজ্যের সর্বত্র। প্রায় ২ কোটি স্মার্ট মিটার বসানো হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে চালু করা হবে প্রিপেড ব্যবস্থা। সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে সরকারি অফিস এবং কলোনি। বৃহৎ গ্রাহকদের জন্যও প্রিপেড ব্যবস্থা চালু হবে। তবে সেক্ষেত্রে সিকিউরিটি মানি জমা দিয়ে তাঁরা তিন মাস অন্তর বিল জমা দেওয়ার সুযোগও পাবেন। স্মার্ট মিটার লাগাতে ৯০০ টাকা ভরতুকি দেবে কেন্দ্র। আর ক্রেতাকে ৯১ মাস ১০০ টাকা করে অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জুন মাসে এ রাজ্যে স্মার্ট মিটার চালু করার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিল পূর্বতন সরকার। মাত্র এক থেকে তিন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য ‘পিএম সূর্যঘর’ যোজনার মাধ্যমে তাঁদের বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ চালু করতে ৭৮ হাজার টাকা ভরতুকি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ২০২৯-৩০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা কোন পর্যায়ে পৌঁছবে এবং এই চাহিদা মেটাতে কী করণীয়, সেই পরিকল্পনা তৈরি রাখতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন খট্টর। এদিনের বৈঠকে উঠে আসে, রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলির প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে বাজারে। সেই টাকা দ্রুত উদ্ধারের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।