স্ত্রীর মুণ্ড কেটে বাড়ির দুর্গা থানে উৎসর্গ! গঙ্গারামপুরে শোরগোল, অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে গিয়ে জখম পুলিশকর্মী
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: স্ত্রীর মুণ্ড কেটে বাড়ির দুর্গা থানে রেখে দুই নাবালক সন্তানকে পাশে বসিয়ে ধ্যানে মগ্ন স্বামী! বুধবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকায় এমনই এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভয়াবহ সেই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামীর নাম রিন্টু ঘোষ। মৃত গৃহবধূর নাম সীমা সরকার (৩৫)। সকালে প্রতিবেশীরা অভিযুক্তের বাড়ির সামনের দুর্গামন্দিরে স্ত্রীর কাটা মুণ্ড নিয়ে তাঁকে বসে থাকতে দেখেন। পাশে ছিল তাঁদের দুই নাবালক সন্তান। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেই সময় তাঁর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক পুলিশকর্মী জখম হন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ধারালো অস্ত্র।

Advertisement

মৃতার বাপের বাড়ির পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাত থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, বুধবার ভোররাতে দুই সন্তানের সামনেই স্ত্রী সীমার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন রিন্টু। এরপর রক্তাক্ত স্ত্রীকে বাড়িতেই চিকিৎসার চেষ্টা করেন। দুই সন্তান পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া সীমা ভোররাতে বাপেরবাড়ির এক নিকটাত্মীয়কে ফোন করে নিজের জখম হওয়ার কথা জানান। খবর পেয়ে ভোরের দিকে নারায়ণপুরে অভিযুক্তের বাড়িতে পৌঁছন তাঁর বাপেরবাড়ির লোকজন। তাঁদের কাছে রিন্টু দাবি করেন, তাঁর মা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন। এরপর সীমার পরিবারের সদস্যরা গঙ্গারামপুর হাসপাতালে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা থানার দ্বারস্থ হন। এরই মধ্যে সীমার মৃত্যু হলে তাঁর মুণ্ড কেটে বাড়ির দুর্গা থানে গিয়ে বসেন রিন্টু। সেই সময় তাঁর পাশে দুই সন্তানও ছিল।
জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় বাস কন্ডাক্টরের কাজ করতেন রিন্টু। কয়েক বছর আগে সেই কাজ চলে যায়। এরপর থেকে সংসারে অশান্তি বাড়তে থাকে। স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোরও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না। ছেলের অত্যাচারের কারণে তাঁর মাও বাড়িতে থাকতেন না। ছোট থেকেই রিন্টু বদমেজাজি ও নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ।
মৃতার মা কল্পনা সরকার বলেন, চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই জামাই  মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত। মঙ্গলবার রাতে মেয়ের সঙ্গে গন্ডগোল করে। পেটে ছুরি মেরেছে বলে বড় নাতি আমাদের জানিয়েছে। ভোর রাতে মেয়ে ফোন করে তার জখমের কথা জানায়। খবর পেয়ে মেয়ের বাড়ি গিয়ে জামাইয়ের কাছে ভুল তথ্য পাই। পরে এসে দেখি, মেয়ের গলা কেটে খুন করা হয়েছে। আমি জামাইয়ের ফাঁসি চাই।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, গঙ্গারামপুরের এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে অভিযুক্তকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  মৃতের  দুই পুত্র।-নিজস্ব চিত্র