


ইস্তানবুল: যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি গাজায় অনাহার আর অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে এরই মধ্যে পালিয়ে গিয়েছেন নিহত হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্ত্রী সামার মহম্মদ আবু জামার। তুরস্কে গিয়ে ফের বিয়ে করেছেন তিনি। সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে একটি ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তারা জানিয়েছে, ‘জামার এখানে নেই। সন্তানদের নিয়ে তুরস্কে রয়েছেন।’ জানা গিয়েছে, জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে গাজা ছাড়েন তিনি। এদিকে নেতানিয়াহু বাহিনী পর্যাপ্ত ত্রাণ আসতে দিচ্ছে না। ফলে খাবার, ওষুধ, জল ও জ্বালানি কম পড়ছে। সূত্রের খবর, গত কয়েক সপ্তাহে না খেতে পেয়ে কমপক্ষে ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সামগ্রিকভাবে অপুষ্টির শিকার হয়েছে ১ লক্ষের বেশি শিশু ও মহিলা।
যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই একাধিক হামাস নেতার পরিবারকে অন্যত্র সরানোর কাজ শুরু হয়। ভুয়ো নথি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রেকর্ড দেখিয়ে এই অভিযান সম্পন্ন করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজার এক মহিলার পাসপোর্ট ব্যবহার করেন জামার। সেটা ব্যবহার করেই রাফা সীমান্ত দিয়ে মিশরে চলে যান। গত বছর ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় সিনওয়ারের মৃত্যু হয়। তৎকালীন হামাস প্রধানের মৃত্যু পরেই ফের বিয়ে করেন জামার। বিবাহে মধ্যস্ততা করেছিলেন হামাসের রাজনৈতিক শাখার পদস্থ আধিকারিক ফাতি হাম্মাদ। আগেও হামাস সদস্যদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়।জানা গিয়েছে, জামারের সঙ্গে গাজা ছেড়েছেন ইয়াহিয়ার ভাই মহম্মদ সিনওয়ারের স্ত্রী নাজওয়াও। এরই মধ্যে দেখতে দেখতে গাজায় ইজরায়েলি হামলার প্রায় দু’বছর কেটে গিয়েছে। হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। তা সত্ত্বেও আক্রমণ থামাতে রাজি নয় নেতানিয়াহু বাহিনী। দিনরাত আছড়ে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। জল-খাবারের জন্য হাহাকার চারিদিকে। এক বেলার খাবারও মিলছে না। স্থানীয় চিকিৎসক ডাঃ মহম্মদ আবু মুঘাইসিবের কথায়, ‘কয়েক মাস ধরে দিনে একবার মাত্র খেয়েছি। কখনও দু’দিনে একবার খেয়েছি। টাকা থাকলেও খাবার পাওয়ার উপায় নেই। কারণ বাজারে যে কিছুই নেই। খাবার, জল, ত্রাণ সামগ্রীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ রাষ্ট্রসঙ্ঘের একাধিক সংস্থার দাবি. এভাবে চলতে থাকলে শীঘ্রই গাজায় মন্বন্তর দেখা দিতে পারে। তবে রবিবার থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে ইজরায়েল। সেই সময় গাজায় আকাশপথে খাদ্যসামগ্রী ফেলা হচ্ছে। এদিনই জর্ডন আর সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ২৫ টন সামগ্রী ফেলেছে। ফাইল চিত্র