Bartaman Logo
২৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রিষড়ায় স্ত্রীকে খুন, কলকাতায় এসে মেট্রোয় মরণঝাঁপ যুবকের, পরকীয়ার সন্দেহেই খুন, প্রাথমিক ধারণা পুলিশের

রিষড়ায় স্ত্রীকে খুনের পর কলকাতায় মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন দীপঙ্কর সরকার। তিন বছরের কন্যা রয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

রিষড়ায় স্ত্রীকে খুন, কলকাতায়  এসে মেট্রোয় মরণঝাঁপ যুবকের, পরকীয়ার সন্দেহেই খুন, প্রাথমিক ধারণা পুলিশের
  • ২৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও কলকাতা: স্ত্রীকে খুন করার পর নিজেও আত্মঘাতী হলেন স্বামী। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির রিষড়ার তিন নম্বর নতুনগ্রাম এলাকায়। শনিবার সকালে ওই যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তখন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তাঁর স্বামী। বিকাল ৩টে নাগাদ কলকাতার বেলগাছিয়া স্টেশনে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন ওই ব্যক্তি। মৃত দম্পতির তিন বছরের এক কন্যাসন্তান আছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিষড়ায় খুন হওয়া গৃহবধূর নাম মণিকা ওঝা (৩১)। মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামীর নাম দীপঙ্কর সরকার (৩৭)। দীপঙ্করবাবু দিল্লির একটি হোটেলের পদস্থ কর্মী ছিলেন।

Advertisement

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট জানিয়েছে, মণিকাদেবীকে খুন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তাঁর স্বামী দীপঙ্কর। ওই ব্যক্তি দুপুরের দিকে বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে হয়েছে, দীপঙ্কর তাঁর স্ত্রীকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করে। তারপর তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে। তদন্তকারীদের দাবি, স্ত্রী’র বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করেই দীপঙ্কর স্ত্রীকে খুন করেন। তাঁদের শিশুকন্যাকে মৃতদেহের পাশেই ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। মণিকাদেবীর বাবা মণীন্দ্র ওঝা বলেন, ‘মেয়ে-জামাইয়ের মধ্যে কোনো বিষয়ে বিবাদ ছিল কি না, আমরা জানি না। আমার ছোটো মেয়ে মধ্যপ্রদেশে থাকে। তাকে মেসেজ করে খুনের কথা জানিয়েছিল জামাই। ওদের ছোট্ট মেয়েটার কী হবে, ভেবে কূল পাচ্ছি না।’ কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।  
জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে মণিকা ও দীপঙ্কর প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। হোটেল ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রিধারী দীপঙ্কর দিল্লিতে থাকতেন। স্ত্রী ও কন্যাকে তিনি সম্প্রতি রিষড়ার ভাড়াবাড়িতে এনে তুলেছিলেন। তাঁদের ভাড়াবাড়ির কাছেই মণিকার বাবার বাড়ি। ছুটি নিয়ে শুক্রবার দিল্লি থেকে রিষড়ার ভাড়াবাড়িতে এসেছিলেন দীপঙ্কর। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মণিকা ও তাঁর মেয়ের সুসম্পর্ক ছিল। শনিবার প্রতিবেশীরাই দেখতে পান, সকাল থেকে মণিকাদের বাড়ির দরজা বন্ধ। তারপরেই খোঁজখবর শুরু হয়। অনেকের দাবি, রাতে মণিকাদের ঘর থেকে ঝগড়াঝাঁটির শব্দ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তখন বিষয়টিতে প্রতিবেশীরা তেমন গুরুত্ব দেননি। সকালে মণিকাকে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় দেখার পর এলাকায় হইচই পড়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।  
এদিকে, এদিন সন্ধ্যার মুখে কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে আরও এক ব্যক্তি মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। দু’টি ক্ষেত্রেই মেট্রো পরিষেবা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ