


নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ভোটাভুটির কী প্রয়োজন ছিল? যে সিপিএম থেকে বিতাড়িত, তৃণমূল থেকে বিতাড়িত, কংসাবতীর বালিচোর, চাকরি করে দেবে বলে টাকা তোলে, সেই ব্যক্তি শুভেন্দু সামন্তকে কেন বিজেপি প্রার্থী করল। ‘দাদা’ জবাব চাই জবাব দাও। এই প্রশ্ন তুলে কেশপুরে পোস্টার পড়ল। আর তাতেই তুমুল শোরগোল। বৃহস্পতিবার দুপুরে কেশপুরের একাধিক জায়গায় লাইট পোস্টে এই পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে সরাসরি বিজেপি প্রার্থীকে নিশানা করা হয়েছে। ফলে অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির নেতাদের একাংশের অভিযোগ, সংগঠনকে শক্তিশালী করার বদলে দলীয় নেতাদের মধ্যেই কোন্দল বাড়ছে। এমনকী শাসকদল তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্বকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে বিজেপির গোষ্ঠীবাজি। ক্ষমতায় না থেকেও পাড়ায় পাড়ায় গ্রুপ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের।
প্রসঙ্গত, কেশপুর একসময়ে সিপিএমের শক্তঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ছিল। বিরোধীদের সেখানে মিটিং মিছিল পর্যন্ত করতে দেওয়া হতো না বলেই অভিযোগ উঠত। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পরও এই কেন্দ্র বামেদের দখলে ছিল। তবে ২০১৬ সালে এই আসন তৃণমূলের দখলে আসে। সেই সময়ে প্রায় এক লক্ষ ভোটে জয়ী হন শিউলি সাহা। ২০২১ সালের নির্বাচনে ব্যবধান কমলেও প্রায় ২৩ হাজার ভোটে জয় ধরে রাখেন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, কেশপুর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল প্রায় এক লক্ষ ভোটে এগিয়ে। এই আবহেই সম্প্রতি বিজেপি কেশপুরের প্রার্থী হিসাবে শুভেন্দু সামন্তের নাম ঘোষণা করে। এরপরই দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতির আসনে টিকিট পেয়েও নিজের বুথেই জিততে পারেননি তিনি। ফলে এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু সামন্ত। তাঁর দাবি, আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। সবাই জানে তৃণমূলের শিউলি সাহাকে তাঁদের নিজেদের কর্মীরাই ভোট দেবেন না। তাই তৃণমূল প্রার্থীর ঘনিষ্ঠরাই এই পোস্টার লাগিয়েছে। এর তীব্র নিন্দা করছি। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহার কটাক্ষ, জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। চুনোপুঁটিদের নিয়ে আমরা ভাবি না। এত খারাপ সময় আসেনি যে এদের নিয়ে পোস্টার দিতে হবে। বিজেপি প্রার্থী কেমন, তা ওদের নেতারাই বলে দিয়েছেন। কেশপুরের সিপিএম প্রার্থী গুরুপদ মণ্ডল বলেন, এটা ওদের নিজেদের বিষয়। আমরা রাজনৈতিকভাবে লড়াই করব। তৃণমূল-বিজেপি দু’টি দলই এক।