দেবাঞ্জন দাস ও সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নামে বিশ্ববিদ্যালয়। আর এই প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রাসঙ্গিক ‘রামকৃষ্ণ পরমহংস ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৪’ বিধানসভায় পাশ হয়েছিল সে বছরের ১০ ডিসেম্বর। এক বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত। কিন্তু সেই বিলে এখনও ‘সম্মতি’ দেয়নি রাজভবন। অথচ উত্তর শহরতলির আগরপাড়ায় ভবন সহ যাবতীয় পরিকাঠামো নিয়ে সম্মতির অপেক্ষায় দিন গুনছে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন। এই পর্বেই বারাকপুর আদালতের এক আইনজীবী বীরেন্দ্রনাথ ভকত রাইট টু ইনফর্মেশন অ্যাক্ট (আরটিআই) ২০০৫ অনুযায়ী ওই বিলের বর্তমান স্ট্যাটাস জানতে চেয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, রাজ্যপাল বিলে সম্মতি দিয়েছেন কি না! জবাবে রাজভবন থেকে যা জানানো হয়েছে, তাতে শুরু হয়েছে তুমুল আলোড়ন। রাজ্যপালের সচিবালয়ের এক উপসচিব তথা স্টেট পাবলিক ইনফর্মেশন অফিসার লিখিতভাবে ওই আইনজীবীকে জানিয়েছেন, আপনি যে তথ্য জানতে চাইছেন, আরটিআই, ২০০৫’এর সেকশন ৮(১)জে, অনুযায়ী তা দিতে ‘বাধা’ রয়েছে। আরটিআই’য়ের ওই সেকশন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত তথ্য, পরিবার, স্বাস্থ্য, সম্পত্তির বিষয়ে কোনও তথ্য চাওয়া যায় না। সেকশনে স্পষ্ট বলা রয়েছে, জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নয়, অর্থাৎ ব্যক্তিগত কোনও তথ্য জানতে চাওয়া যায় না। তবে রাজ্যের পড়ুয়াদের আধুনিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য গড়ে উঠছে যে বিশ্ববিদ্যালয়, তার বর্তমান স্টেটাস জানতে চাওয়াটা কীভাবে ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ হয়, তা বোধগম্য হচ্ছে না কারও। হতাশার সুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের সম্পাদক স্বামী নিত্যরূপানন্দের গলাতেও।



