


নিজস্ব প্রতিনিধি, হলদিয়া ও পানিহাটি: বাঙালি বিরোধী তকমা সেঁটে গিয়েছে গোটা দলের গায়ে! নির্বাচনি প্রচারে এসে বৃহস্পতিবার বিজেপির পোস্টার বয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাই বাঙালি আবেগে শান দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালালেন। মৎস্যপ্রেমী বাঙালির অমোঘ আকর্ষণ মাছকে হাতিয়ার করে বিঁধতে চাইলেন মমতার সরকারকে। দাবি করলেন, কেন্দ্রের প্রকল্প না নেওয়াতেই বাংলায় মাছ উৎপাদন বাড়েনি। ভিন রাজ্য থেকে মাছ আনতে হয় বাংলাকে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ-মাংসে নিষেধাজ্ঞা এবং মাছ বিক্রির অপরাধে সি আর পার্কে ভক্তদের রোষানলে পড়া গরিব বিক্রেতা—সে সব কথা ভুলে গিয়ে মোদির এই মৎস্যপ্রেম যে বাঙালি সেন্টিমেন্টকে সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্যই, তা বুঝেছেন তৃণমূল সুপ্রিমোও। পালটা জবাব দিয়েছেন তিনিও। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অসত্য বলে দাবি করেছেন মমতা। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর পরামর্শ—‘বাংলাকে মাছ নিয়ে শেখাতে আসবেন না। বিহার, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান ওরা নিজেরাই মাছ খেতে দেয় না, সেটার কী হবে! দিল্লিতে মাছ ও মাংসের দোকানে হামলা চালানো হয়। আপনারা মানুষকে বাংলায় কথা বলতে দেন না, আপনাদের কী লজ্জা করে না! সেই আপনারা, আমাদের মাছ চাষ নিয়ে শিক্ষা দিতে আসছেন! আগে আমরা অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মাছ আনতাম, কিন্তু এখন চাহিদার ৮০ শতাংশ মাছ বাংলাতই উৎপাদিত হয়।’
প্রায়শই গেরুয়া পার্টির নানা ফতোয়ার ঘটনা সামনে আসছে। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে এই সমস্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মমতা। সেই সঙ্গে বাংলাকে এই গেরুয়া আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষার করার কথাও মানুষকে বারে বারে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে প্রতিটি জনসভা থেকে এই ইস্যুতেই বিজেপিকে একটি ভোটও না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ওরা সুযোগ পেলেই বাঙালির মাছ মাংস ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেবে। আমি বলছি না যে সবাইকে আমিষ খাবার খেতেই হবে, কিন্তু খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ হওয়া উচিত। সেখানেও হানা দেবে ওদের দল।’ এবারের ভোটে খাদ্যাভ্যাস বড়সড় ইস্যু হয়ে উঠে আসায় বিজেপির এ রাজ্যের প্রার্থীদের অনেককে হাতে বড়সড় মাছ ঝুলিয়ে প্রচার করতে দেখা যাচ্ছে। মাছে-ভাতে বাঙালি—চিরন্তন এই আবেগকে সুড়সুড়ি দেওয়া মোদিকে ‘আমোদি-প্রমোদী বাবু’ বলেও কটাক্ষ করেন মমতা। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, ‘এরা এখন এসে বড় বড় কথা বলছে। কিন্তু ভোট মিটলেই আর এঁদের দেখা পাওয়া যবে না।’
হলদিয়ার সভায় মোদি বললেন, ‘বাংলায় মাছের প্রচুর চাহিদা। অথচ, মাছ চাষে স্বনির্ভর নয় এই বাংলা। অন্য রাজ্য থেকে এখানে মাছ আনতে হয়। ১৫ বছরের শাসনে মাছ দিতে পারছে না সরকার। বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। এটা দুর্নীতির উদাহরণ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিএম মৎস্য সম্প্রদান যোজনায় এনডিএ পরিচালিত বিহার, অসমে মাছ চাষে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। কিন্তু এই স্কিমে ‘পিএম’ শব্দ থাকায় অহংকারি তৃণমূলের পছন্দ নয়। সেই কারণে এই প্রকল্পকে চালু করছে না।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে খণ্ডন করেছেন মমতা। তাঁর যুক্তি, ‘রাজ্যের অধীনে থাকা জলাশয়ে মাছ চাষ হয়। আমরা চার থেকে পাঁচ বছর আগে এটি শুরু করেছি। মাছে এখন স্বনির্ভর বাংলা। মাছ নিয়ে যাঁরা নাক সিঁটকান, তাঁরাই এখন মাছ নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন!’ মমতা বলেন, ‘আগে হায়দ্রাবাদ থেকে ডিম আনতাম, কিন্তু আমরা হাঁস ও মুরগির পোল্ট্রি ফার্ম তৈরি করেছি। এখন ৯০ শতাংশ ডিম এখানেই উৎপাদিত হয়। পেঁয়াজ উৎপাদনও বেড়েছে রাজ্যে।’