সংবাদদাতা, মালদহ: সামনেই নির্বাচন। তাই বিরোধীদের নিষ্ক্রিয়তার ধারাবাহিক অভিযোগের মুখে বিজেপির ভরসা রেল নিয়ে প্রচার। জেলার রেল পরিষেবার ক্ষেত্রে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বেশি করে প্রচারের আলোয় আনতে মরিয়া বিজেপি। একই সঙ্গে উন্নততর রেল পরিষেবার জন্য আর কী কী দাবি তোলা হচ্ছে, সেসব ফলাও করে প্রচার করছেন বিজেপির সাংসদ থেকে দলের জেলা নেতৃত্ব। রেলকে আঁকড়ে ধরেই আপাতত মালদহের ভোটারদের মন জয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তাঁরা।
মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে আসরে নেমেছেন রেল সংক্রান্ত কয়েকটি নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে। সোমবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে দু’পাতার লিখিত দাবি পেশ করেছেন তিনি। পরে সমাজমাধ্যমে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ছবি শেয়ার করে রেল নিয়ে তাঁর এবং দলের সক্রিয়তার জানান দিয়েছেন খগেন।
রেলমন্ত্রকের কাছে পেশ করা দাবিপত্রে খগেন আগরতলা-আনন্দ বিহার তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি মালদহ টাউন স্টেশন হয়ে চারদিন চালানোর দাবি পেশ করেছেন। একই সঙ্গে মালদহ টাউন-নতুন দিল্লি দু’টি পৃথক ট্রেন প্রতিদিন চালানোর প্রস্তাবও রয়েছে। মালদহ টাউন-পাটনা এক্সপ্রেসও প্রাত্যহিক করার প্রস্তাব দিয়েছেন সাংসদ।
পাশাপাশি, জামিরঘাটা স্টেশনে নবদ্বীপ ধামগামী দু’টি এবং হাওড়াগামী দু’টি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের স্টপের দাবি তুলেছেন সাংসদ। গৌড় এক্সপ্রেসের বিধাননগর স্টেশনে পুরনো স্টপ ফেরানোর দাবিও করেছেন তিনি। এই দাবির বিষয়টি সামনে আসতেই কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান চৈতালি সরকার বলেন, রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলছেন বিজেপি সাংসদ, তুলুন। কিন্তু জেলার যে লক্ষ লক্ষ মানুষ এসআইআর এবং ভাঙন নিয়ে জেরবার, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন না কেন? রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা ও রাজ্যের রেল পরিষেবাকে উন্নতির শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন। এখনকার মতো উন্নয়নের জন্য হাত পাততে হত না।
বিজেপি সাংসদের বক্তব্য,মালদহ থেকে রাজধানী, বন্দে ভারত স্লিপার, অমৃত ভারতের মতো ট্রেনের কথা তৃণমূল কল্পনাও করতে পারত না। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের একের পর উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত মালদহের মানুষ। তাতেই জ্বলছে তৃণমূল।